মোঃ আবু সাইদ শান্ত
বগুড়ায় অশ্লীল নৃত্য, অশ্লীল গান এবং আপত্তিকর ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। জনপ্রিয়তা অর্জন ও লাইক-ভিউয়ের আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি এসব কনটেন্ট তৈরি করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করছে, যা সরাসরি যুব সমাজকে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করা হচ্ছে। এসব নৃত্য ও গানভিত্তিক ভিডিও নিয়মিতভাবে ফেসবুক, রিলস ও শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওগুলোতে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, আপত্তিকর ভাষা ও সমাজবিরোধী আচরণ প্রদর্শিত হচ্ছে, যা কিশোর ও তরুণদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব কনটেন্ট দেখার ফলে তরুণদের আচরণে উদ্বেগজনক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তারা পড়াশোনা ও সামাজিক মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভিডিওতে প্রদর্শিত আচরণ অনুকরণ করছে, যা সমাজের জন্য অশনিসংকেত।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, অশ্লীল কনটেন্ট নির্মাণ ও প্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ পরিণতি দেখা দিতে পারে। তারা ফেসবুক কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি এসব কনটেন্ট মনিটরিং জোরদার করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই নৈতিক অবক্ষয় রোধ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে যুব সমাজকে সুস্থ সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।