মোঃ সাইদুর রহমান
মানিকগঞ্জে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাদী এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) মানিকগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বাদীর নাম শারমিন আক্তার শীলা। তিনি সাটুরিয়া উপজেলার তেবারিয়া দরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং তার পিতা শফিকুল ইসলাম। মামলার অপর পক্ষ তার সাবেক স্বামী মোহাম্মদ শহীদ হোসেন, পিতা সুলতান উদ্দিন, সাং মানড়া, বারিন্দা বাজার, নাগরপুর, টাঙ্গাইল।
মামলার নথি ও আদালতে দেওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে উভয় পক্ষের মধ্যে খোলা তালাক সম্পন্ন হয়।
তালাকের সময় কাবিনের অর্থ ও খরচ বাবদ মোট ১৪ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেন বাদী শারমিন আক্তার শীলা। এ বিষয়ে আপস-মীমাংসাও সম্পন্ন হয় বলে আদালতে প্রমাণিত হয়।
তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর কাবিননামা ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে বাদী নতুন করে মামলা দায়ের করেন। আদালতে শুনানিকালে প্রমাণিত হয় যে, তিনি ইতোমধ্যে তার প্রাপ্য অর্থ বুঝে নিয়েছেন। অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার লোভে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ আদালতে উঠে আসে।
এ বিষয়ে আদালত বাদীর বক্তব্য অসঙ্গতিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন মনে করলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন এবং হাজতখানায় প্রেরণ করেন।
পরবর্তীতে তাকে মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে, অভিযুক্ত স্বামী মোহাম্মদ শহীদ হোসেন জানান, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক অস্থিরতা ও সম্পর্ক টেকেনি। একাধিকবার বিরোধের পর উভয়ের সম্মতিতে তালাক হয় এবং তালাকের সময় সব দেনা-পাওনা পরিশোধ করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে,
যে বর্তমানে তার স্ত্রী কাছে থাকে। শিশুটিকে তার নানার বাড়িতে নিয়ে যেতে কোনো আপত্তি নেই বলেও তিনি আদালতে জানান।
অন্যদিকে, আদালতে দেওয়া বক্তব্যে বাদী শারমিন আক্তার শীলা বলেন, “আমি কাবিনের টাকা বুঝে পেয়েছিলাম, তবে আমার কাছ থেকে পূর্বে ১২ লাখ টাকা চাকরি বাবদ নিয়েছিল বলে আমি মামলা করেছিলাম। পরে আমাকে উল্টো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের পরবর্তী আদেশ ও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন