মোঃ আব্দুল আলীম
পাঁচবিবি উপজেলা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক গভীর বেদনা ও ত্যাগের সাক্ষী। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা
বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয় এবং এই স্থানগুলোই পরবর্তীতে বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই বধ্যভূমিগুলো শুধু একটি স্থান নয়, এটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক পবিত্র তীর্থস্থান, যেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
#উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আহম্মেদের নেতৃত্বে ১৪ ডিসেম্বর রোববার সকালে উপজেলার কালিশা বধ্যভূমি, বালিঘাটা ইউনিয়নের কোকতারা বকুলতলা, আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের কেশবপুর বধ্যভূমি ও ধরঞ্জী ইউনিয়নের নন্দইল আদিবাসী ভাস্কর্য শহীদদের স্বরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান, পাঁচবিবি থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাফিজ মোঃ রায়হান,
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব বুলু।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহম্মেদের সভাপতিত্বে সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকারী দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
#পাঁচবিবিতে উল্লেখযোগ্য বধ্যভূমির মধ্যে রয়েছে
বাগজানা বধ্যভূমি: এটি পাঁচবিবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বধ্যভূমি।
আটাপুর বধ্যভূমি: এটিও স্বাধীনতা যুদ্ধের ভয়াবহতার নীরব সাক্ষী।শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের প্রক্রিয়া
সাধারণত বিভিন্ন জাতীয় দিবস, বিশেষ করে ১৪ই ডিসেম্বর এই বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণ: প্রথমে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলসমূহ নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সারিবদ্ধভাবে বধ্যভূমির বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
পাঁচবিবির এই বধ্যভূমিগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, স্বাধীনতার মূল্য কত রক্তক্ষয়ী ছিল। প্রতি বছর এই স্থানগুলোতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মাধ্যমে জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের ঋণ স্বীকার করে।