সাদ্দাম হোসেন
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বেশ কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রেজাউল বারী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, “কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন, যা চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী অপরাধ। তাই সবাইকে রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ ও মিছিলে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হলো।”
সূত্র জানায়, সম্প্রতি অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। কেউ কেউ রাজনৈতিক নেতাদের ব্যানার-পোস্টারে নিজেদের ছবি ব্যবহার করছেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি ও ফুলেল শুভেচ্ছার পোস্ট দিচ্ছেন। এসব করতে গিয়ে কেউ কেউ অফিস সময়েও অনুপস্থিত থাকছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি নূর খান বলেন, “রাজনৈতিক সমর্থন ব্যক্তিগত বিষয়, তবে চাকরির নিয়ম ভঙ্গ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া ঠিক নয়। প্রশাসক বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। ইতিমধ্যে একজন কর্মচারীকে শোকজও করা হয়েছে।”
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানান, “চাকরিবিধি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কাউকে নির্দিষ্টভাবে টার্গেট করা হয়নি; সবাইকে সচেতন করাই মূল উদ্দেশ্য।”
তবে রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। বাসদ বরিশাল জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, “বরিশাল সিটি করপোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। অফিস সময়ের বাইরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেটি সীমিত করা যায় না।”
অন্যদিকে, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, “অফিস শেষে কেউ যদি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেয়, তাহলে সিটি করপোরেশনের বাধা দেওয়ার অধিকার নেই। এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিপন্থী।”
|
ইং