মোঃ মানসুরুল হক রবিন
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বহুতল ভবনের ছাদে কৃষি খামার স্থাপন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এক সময় বাসা বাড়ির ছাদ ছিলো শুধু জামাকাপড় শুকানোর উপযোগী ক্ষেত্র।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই ছাদ এখন সবুজে ঘেরা কৃষিজ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। হোসেনপুর পৌর এলাকা থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের অনেকের ভবনের ছাদেই ফুল,ফল,শাকসবজি ও ঔষধি গাছের পাশাপাশি বস্তায় আদা ও হলুদের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, ছাদকৃষির মাধ্যমে ভবনের পতিত জায়গা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। এতে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা যেমন পূরণ হচ্ছে, তেমনি বাসভবনের খালি জায়গায় উৎপাদন হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিজ পণ্য।তাছাড়া ছাদকৃষি আবাসিক রুমের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। কেননা আবাদকৃত বৃক্ষরাজি ছাদের অতিরিক্ত উত্তাপ কমিয়ে পরিবেশ দূষণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।অন্যদিকে স্বল্প পরিশ্রম ও পরিচর্চায় সারা বছর খোলা ছাদে উৎপাদন হয় বিশুদ্ধ শাকসবজি ও ফলমূলসহ কৃষিজ পণ্য। এরই
ধারাবাহিকতায় হোসেনপুর উপজেলার চরপুমদি, রামপুরসহ গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার
বহু কৃষক পরিবার এখন ছাদকৃষির মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে ছাদ কৃষিতে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হচ্ছেন শিক্ষিত তরুণ তরুণীরা। যাদের মধ্যে উপজেলার রামপুর এলাকার রাজিবের বাসভবনের ছাদ যেন একটি ছোট্ট কৃষিখামার। যেখানে বস্তায় হলুদ ও আদা চাষের পাশাপাশি রয়েছে পেয়ারা,লেবুসহ বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে ছাদ কৃষিতে সফল উদ্যোক্তা মোঃ রাজিব মিয়া জানান, স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনি কেঁচো সার ও অল্প পরিমাণ রাসায়নিক সার মিশিয়ে চাষের উপযোগী মাটি তৈরি করে ফলদ,বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন করে আশাতীত সফলতা পেয়েছেন। তাই তিনি অন্যদের অনুপ্রেরণা যোগাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। যাতে প্রতিটি বাড়ির ছাদের সীমিত জায়গায় সর্বাধিক কৃষি পণ্যের
উৎপাদন সহজ হয়ে ওঠে।
তিনি আরো জানান, প্রতিবছর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে বাড়ির ছাদে বস্তায় আদা লাগানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কৃষি জমির তুলনায় ছাদে বস্তায় আদা চাষ সহজ ও লাভজনক। এতে কন্দপচা রোগের ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি পরিচর্যাও সহজ হয়। ছাদে বা বাড়ির আশপাশের ছায়াযুক্ত জায়গায় আদা, হলুদ ও অন্যান্য শাকসবজি চাষ করলে যেমন পতিত জায়গা কাজে লাগে, তেমনি পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত আয় করাও সম্ভব হয়।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীমুল শাহান জানান,'আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় নিয়মিত কৃষকদের সাথে যোগাযোগ রেখে ছাদে কৃষি বাগান করতে সবাইকে উৎসাহিত করছি।ইতিমধ্যে রাজিবের মতো অনেকেই ছাদ কৃষিতে সফলতা পেয়েছেন। তাই এ ধারা অব্যাহত থাকলে আশা করছি আগামীতে হোসেনপুরে ছাদ কৃষিতে সবুজ বিপ্লব ঘটবে।'
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একেএম শাহজাহান কবির জানান,
হোসেনপুরে ছাদকৃষি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শহরের মানুষ যেমন ওই পদ্ধতি গ্রহণ করছে,তেমনি গ্রামাঞ্চলেও ছাদকৃষির ব্যাপকতা বেড়েছে। তাই আগ্রহী কৃষকদের আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি,যাতে সবাই তাদের বাড়ির ছাদ ও আশপাশের পতিত জায়গা কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারেন। এতে শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা হবেনা বরং পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয়ের উৎস ওই ছাদকৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
মন্তব্য করুন