সুমন আহমদ খান
সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্ব ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. সারওয়ার আলম। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ঘুষ নেওয়ার এক টাকারও প্রমাণ দিতে পারলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দেবেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা লেনদেনের প্রশ্নই আসে না। সম্প্রতি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কারণে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
তিনি জানান, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। সিলেটে তিনজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় যাচাই করা হয়। তাদের মধ্যে একজন প্রার্থী বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন বা হোম অফিসের স্বীকৃত ডকুমেন্ট কিংবা বাংলাদেশ হাইকমিশনের রসিদ জমা দিতে ব্যর্থ হন। ফলে আইন অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
ডিসি মো. সারওয়ার আরও বলেন, শুধু আইন ও বিধি অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও দ্বৈত নাগরিকত্ব সারেন্ডারের কাগজপত্র যাচাই অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ থেকে নাগরিকত্ব ত্যাগের সত্যতা পাওয়া না যায়, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদও বাতিল হবে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের ভুল বার্তা ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্তব্য করুন