বিশেষ প্রতিনিধি (পিরোজপুর)
মো আমিনুল ইসলাম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বিবিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী (নিরাপত্তা প্রহরী) মোঃ মাকছেদুল ইসলামের বয়স জালিয়াতি করে চাকরি করার বিষয় নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
গত ৭ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।প্রতিবেদনটি দাখিল করেন অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ নজরুল ইসলাম।তবে তিনি অনিয়মের পক্ষে ওই প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, মাকছুদুল ও তার জমজ ভাই শাহিদুল ইসলাম ১৯৯৯ সালে বিবিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হয়।যেখানে দুই ভাইয়ের জন্ম তারিখে ১৯৮৭ সাল উল্লেখ করা হয়। যা ওই বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্ট্রারে উল্লেখ রয়েছে। শাহিদুল ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করলেও মাকছুদুল ৭ম শ্রেনীর পর আর লেখাপড়া করেন নি।
একপর্যায়ে মিরুখালী সোবাহান শরীফ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেনী পাশের সনদ সংগ্রহ করে ২০২৩ সালে চাকরিতে যোগদান করেন মাকছুদুল। এক্ষেত্রে তিনি তার বয়স ৭ বছর পরিবর্তন করেন।একটি ভোটার তালিকায় দেখা যায় তার নাম শুধু মাকছুদুল - জন্ম তারিখ - ২০/১০/১৯৮৭। আরেকটি ভোটার তালিকায় দেখা যায় তার নাম মোঃ মাকছেদুল ইসলাম-জন্ম তারিখ-০১/০১/১৯৯৪।তদন্তের ক্ষেত্রে মাকছুদুল যে বিদ্যালয়ে বর্তমানে চাকরি করেন সেই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হওয়ার ভর্তি রেজিস্ট্রার দেখেননি তদন্ত কর্মকর্তা। নাম কিছুটা পরিবর্তন করে এবং ৭ বছর বয়স কমিয়ে নতুন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখেননি তদন্ত কর্মকর্তা। জমজ দুই ভাইয়ের বয়স ৭ বছর ব্যবধান কিভাবে হয় তাও জানতে চাননি তিনি।
রহস্যজনক কারনে একাডেমিক সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম সোবাহান শরীফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে মোঃ মাকছেদুল ইসলামের নাম হাজিরা খাতায় আছে কিনা তা দেখেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
সোবাহান শরীফ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে হাতে লেখা ৮ম শ্রেনী পাশের সনদটি বৈধ প্রমান করার চেষ্টা করলেও বয়স জালিয়াতি নিয়ে সঠিক তদন্ত করেননি তিনি।এতে অভিযোগ প্রদানকারী ব্যক্তিদের মনে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।