খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে কয়রা এবং পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা ৬ আসন নিয়ে। এখানে ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খুলনা জেলা বিএনপির (ভারপ্রাপ্ত)সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পিকে।
মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা প্রতিক্রিয়া। এরই মধ্যে কেউ প্রশ্ন তুলছে, খুলনা ৬ আসনের বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী না পেয়ে রূপসা থেকে কেন আনা হলো? এর মধ্যে আবার কেউ বিদ্রুপ করছে, কেউ আবার বলছে, কয়রা পাইকগাছার মানুষকে নেতৃত্ব দিতে নাকি 'ভাড়াটে নেতা' দরকার!
এই প্রেক্ষিতে বহিরাগত বিতর্কের জবাবে মুখ খুলছেন বিএনপি নেতা এবং খুলনা ৬ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের সম্ভাব্য প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পি।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) উপজেলা কয়রায় নিজের নির্বাচনীয় কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, অনেকেই বলছেন ধানের শীষের প্রার্থীর বাড়ি রূপসায়, কয়রাই নয়। হ্যাঁ ঠিকই বলছে আমার বাড়ি রুপসা ঠিকই, কিন্তু বসবাস করি খুলনা শহরে। ঠিক যেমন এখানকার জামাতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও থাকেন খুলনা শহরে, এক্ষেত্রে জামাত প্রার্থীর শিকড় দেশের বাইরে কিনা সেটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমি খুলনা জেলার ছেলে, তাই কয়রা পাইকগাছার উন্নয়নে কাজ করতে আমার কোন বাধা নেই।
দীর্ঘদিনের স্থানীয় সরকারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি টানা চৌদ্দ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। রূপসায় আমার ইউনিয়নে গিয়ে জেনে আসুন, আমি কি কি উন্নয়ন করেছি, উন্নয়ন কিভাবে করতে হয়, কাজ কিভাবে আনতে হয়, সেটা আমি জানি।
আমার এনারজি আছে পরিশ্রমের শক্তি আছে কৌশল জানি শুধু একবার সুযোগ দিন - দ্বিতীয়বার ভোট চাইতে আসবো না। যদি মনে করেন আমি যোগ্য তখন আপনারাই আমাকে ডেকে নেবেন।
এ সময় বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়কার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গ টেনে মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেন, সে সময় আমরা জামাতের প্রার্থীকে এখানে এমপি বানিয়েছিলাম ভেবেছিলাম মানুষের ভাগ্য বদলাবে।
কিন্তু তখন কয়রায় ক্ষমতা দেখিয়েছে জামাত, বিএনপি নেতা কর্মীরা ছিলেন অসহায় দর্শক। কয়রায় জমি দখল ঘের বাণিজ্যের প্রসংগঠনের বিএনপি প্রার্থী বলেন, খুলনা শহরের অনেক প্রভাবশালী এখানে এসে হাজার হাজার বিঘা জমি দখল করে চিংড়ি ঘের করছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই -জমি জার ঘের তার। জোর করে জমি দখল করে ঘের করা চলবে না।
তিনি বলেন, কয়রার মানুষ কখনো ভাত কাপড় চাইনি, তারা চেয়েছে টেকসই বেরিবাদ। অতীতে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল কিন্তু বাদ হয়নি। টাকা গেছে লুটেরাদের পকেটে। কয়েকজনের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ বঞ্চিতই থেকে গেছে।
এই মতবিনিময় সভায় বিএনপি'র স্থানীয় নেতা এবং কর্মী সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচিত হলে কয়রা পাইকগাছার উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেন, কয়রায় ২৫০ শসজ্জা বিশিষ্ট হাসপাতাল গড়ে তুলব, সুপিয় ও পানির ব্যবস্থা করব, সুন্দরবন ঘিরে পর্যটকের কেন্দ্র তৈরি করব।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে মনিরুল হাসান বাপ্পি খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, পাইকগাছা শিপসা নদীর উপরে সেতু নির্মাণ করব, যাহাতে কয়রার মানুষ দ্রুত খুলনায় যেতে পারে। এবং মাদক মুক্ত সমাজ ও শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজ করব।