রাকিব জামানটুঙ্গিপাড়া উপজেলার পৌরসভাসহ পাঁচটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে মহিলাদের মুরগি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি “মায়ের দোয়া মুরগি ফার্ম এন্ড হ্যাচারি” নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে দরিদ্র ও অসহায় নারীদের মুরগি দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে কাঠ বিক্রির নাম করে টাকা আদায় করতেন। প্রতিটি কাঠের মূল্য নেওয়া হতো ৫০০ টাকা করে। এভাবে তিনি কয়েক হাজার কাঠ বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন।
গত ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে। পরে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে যায়।
টুঙ্গিপাড়া থানায় এ ঘটনায় মামলা হয়। মামলা নং–৯ এবং ৪০৬/৪২০ (বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণা) ধারায় উল্লেখ করা হয় মামলায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন-
হবিব রহমান, পিতা: মোহাম্মদ আজগর হোসেন, ধুপি পাড়া, পার্বতীপুর পৌরসভা, দিনাজপুর এবং মোঃ আবু বকর, পিতা: ইব্রাহিম মুন্সী, পার্বতীপুর পৌরসভা, দিনাজপুর। এই দুই প্রতারক প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে। ভুক্তভোগীরা হলেন-
রাফুজা বেগম, মিলন তালুকদার, বাঁশবাড়িয়া – ১৭,০০০ টাকা। লিপিকা, সংকল্প বিশ্বাস, ভৈরব নগর – ১৪,০০০ টাকা। উজ্জ্বল মোল্লা, পিতা: আবুল বাশার মোল্লা, বর্ণী – ২০০৮ টাকা। অনিমেষ বাইন, পিতা: বিশ্বজিৎ বাইন, ডুমুরিয়া – ১৬,০০০ টাকা। নিপা ইসলাম, পিতা: আব্দুল আল মামুন, চর গোপালপুর – ২০,০০০ টাকা। মোহাম্মদ কাদের, পিতা: মোহাম্মদ কালু শেখ, পাঁচকানিয়া – ৪,২০০ টাকা। ইতি খানম, পিতা: এনায়েত বিশ্বাস, বর্ণী – ১২,০০০ টাকা। লিটন, নবুখালী – ১০,৩০০ টাকা। এছাড়াও নাম অজানা কয়েক হাজার গ্রাহক।
ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রথমে নিজেকে একটি মুরগি ফার্ম ও হ্যাচারির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন। পরে কাঠ কিনলে মুরগি দেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দিয়ে টাকা নেন। দীর্ঘদিন পার হলেও কোনো মুরগি বা কাঠ না পাওয়ায় তারা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রতারকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।