মো. মাহে আলম মাহী
ভোলার চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, গত ১২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলার চারটি আসনেই যথাযথভাবে মেনে চলছে। একই সঙ্গে গণভোটের পক্ষে ভোলা-১, ভোলা-৩ ও ভোলা-৪ আসনে জামায়াত ও ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা নিয়ম মেনে গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এ সময় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে একাধিকবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে ছবি সংবলিত ফেস্টুন ও প্রতীক ব্যবহার, গণসংযোগে বাধা প্রদান এবং জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন মাওলানা হারুনুর রশিদ। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সহিংস ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর চরফ্যাশনের জিন্নগরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করার পর সেখানেও হামলার ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জাতীয় গণমাধ্যমে এসব ঘটনা প্রচারিত হলেও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত ২০ ডিসেম্বর দক্ষিণ আইসা বাজার এলাকায় জামায়াতের এক নারী কর্মীর ওপর বিএনপির যুবদলের এক নেতার নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও ভুক্তভোগী এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এছাড়াও আমিনাবাদের কুসুমবাগ গ্রামে তিনজন ভোটারের ওপর হামলা, ভেলুমিয়ায় সংঘর্ষে জামায়াত নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং লালমোহনের রায়চাঁদ বাজারে এক নারী ভোটারকে গণসংযোগে বাধা দেওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। এসব ঘটনায় ভোলা সদর হাসপাতাল, লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চরফ্যাশন হাসপাতালে জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মী চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন, “আমরা বারবার আইনের আশ্রয় নিচ্ছি, মামলা করছি; কিন্তু আইন তার গতিতে চলছে না বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এত ঘটনার পরও প্রশাসনের ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। এতে করে নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হচ্ছে না।”
তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমানসহ সাত উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোলার চারটি আসনেই সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় নেতা ও স্থানীয় প্রার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য কাম্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভোলা-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের ভোলা সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যানজট ও জনভোগান্তির বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। এটিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল উল্লেখ করে প্রশাসনের নির্লিপ্ততার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
শেষে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আচরণবিধির সমান প্রয়োগ এবং ভোলার চারটি আসনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানায় জামায়াতে ইসলামী।