আব্দুল্লাহ আল মামুন
তীব্র শীতের রাতে যখন নিস্তব্ধ প্রকৃতি,মাঝে মাঝে ঠান্ডা বাতাস বইছে চারিদিকে। ব্যাস্ততা শেষে সকলে যখন গরম কাপড়ে গভীর নিদ্রায় আছে যার যার শয়নকক্ষে সেই মুহূর্তে নৈশপ্রহরী ও কয়েকটা কুকুর আর মাঝে মধ্য দূরপাল্লার গাড়ীর চলাচলে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মণিরামপুর বাজারের প্রধান সড়ক,অলিগলি সহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটা ভ্যান গাড়ির পেছনে পেছনে ছুটছে দলভিত্তিক কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্র। মাথায় টুপি,শরীরে লম্বা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হতে আসা এ সমস্ত শিক্ষার্থীরা শীত উপেক্ষা করে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রচারিক ফেস্টুন টানিয়ে চলেছে দ্রুতগতির সাথে।
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতীক বরাদ্ধের পর ২২শে জানুয়ারী রাত ১২টায় উল্লেখিত বিষয়টি নজরে রেখে পরদিন অর্থাৎ ২৩শে জানুয়ারী মধ্যরাত পর্যন্ত মাদানী নগর মাদ্রাসার কোমলমতী শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী মা.রশীদ আহমেদ তার নির্বাচনী কাজে ধারাবাহিক প্রচারনায় এ সমস্ত শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যা সমাজ ব্যবস্থা,শিক্ষানীতি,নির্বাচনী আইন বহির্ভূত,মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে! এমনকি কোমলমতী শিক্ষার্থীদের দিয়ে এহনে কর্মকান্ড দেশের ইতিহাসে রাজনীতিকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ! এর আগে জাতীয় কোন নির্বাচনের রেকর্ডে সুযোগ-সন্ধানী জঘন্যতম এমন সেচ্চাচারিতার অভিযোগ ইসি পেয়েছে কিনা সন্দেহ আছে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা উপজেলার প্রবীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
সংগৃহীত ২টি ভিডিও ভুটেজে গরুহাট মোড়ে রাত ১১টা ৪০ মিঃ এর দিকে দেখা যায়,ভ্যানগাড়িতে করে ধানের শীষের ফেস্টুন টানিয়ে চলেছে ছাত্ররা।কথা হলে তারা বলে বাড়ি কেশবপুর বেগমপুরে,একজন সুন্দলপুর এভাবে পরিচয় দিয়ে বলতে থাকে,৪/৫জন ছাত্র মিলে একটি ভ্যান টিম করে সারা মণিরামপুর কাজ করছে। প্রথমে প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে অস্বীকৃতি জানালেও ধমকদিলে গড়গড় করে বলতে শুরু করে,তারা মাদানীনগর মাত্রাসার ছাত্র। পরিক্ষা শেষ হওয়াতে হুজুর মাওলানা রশীদ আহমাদ,তাদের এ কাজ দিয়েছে।
তথ্যমতে,এই ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন এবং তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিকতার জায়গায় থাকার কথা,কোনোভাবেই তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট মাদানী নগর মাদ্রাসার আরেক অভিভাবক জানিয়েছেন যে,অগ্রীম মাসের বেতন দেওয়া লাগে যে প্রতিষ্ঠানে তারা আবার ছাত্রদের নির্বাচনী কাজে কেনো ব্যবহার করা হবে! তাছাড়া,আমরা ছেলে মেয়ে সেখানে দ্বীনের শিক্ষার জন্য পাঠাই,কারো নির্বাচনী পোস্টার বিলি করতে না।
এ ঘঠনায় ধানের শীষের প্রার্থী মা. রশীদ আহমেদের মুঠোফোনে না পেয়ে তার হিসাব রক্ষক মোঃ আজহারুলের সাথে কথা হলে,তিনি হুজুরকে জানাবেন বললেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত মা. রশীদ আহমেদের পক্ষ হতে কোন জবাব আসেনি।
এ বিষয়ে উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের সাথে কথা হলে ঘঠনাটি মানবাধিকার লঙ্ঘন উল্লেখ করে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
তবে,রাজনৈতিক কাজে শিক্ষার্থীদের দিয়ে সমাজ ও আইন বহির্ভূত কর্মকান্ডে জড়িতদের অপরাধ প্রমানিত হলে প্রার্থীতা বাতিল সহ বৃহৎ শাস্তির দৃষ্টান্ত নির্বাচন কমিশনের অনেক আছে বলে রেকর্ড আছে। এ সময় উপস্থিত মণিরামপুর সহকারী কমিশনার ভূমি মাহির দায়ান আমিন'কে জরুরী ভিত্তিতে এ অভিযোগের দায়িত্ব দেন রিটার্নিং অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন।