এসএম শাহাদাত
অবিভক্ত বাংলা ও আসামের শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, সাহিত্যিক, দার্শনিক ও সুফি সাধক—‘স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টের সেবা’ এই মহান আদর্শে প্রবক্তা, নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনসহ অসংখ্য শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নেপথ্য কারিগর এবং মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত পীরে কামেল সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ সুফি আলহাজ্জ খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.)-এর ৬২তম তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ওরছ শরীফ আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত হবে।
ওরছ শরীফ উপলক্ষে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় নলতা পাক রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে অধিক জনসমাগম, সভা ও আনুষ্ঠানিকতা সীমিত রাখার সরকারি নির্দেশনার কারণে পূর্বনির্ধারিত ফেব্রুয়ারির ৯, ১০ ও ১১ তারিখ পরিবর্তন করে পীরে কামেল হযরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.)-এর বেছালের আরবি তারিখের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মার্চ মাসে ওরছ শরীফের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
পরামর্শ সভায় নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের কর্মকর্তা ও শিক্ষক আলহাজ্ব আবুল
ফজলের সঞ্চালনায় এবং সদ্য নির্বাচিত সভাপতি আলহাজ্জ মোঃ মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রউফ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আলহাজ্জ মোঃ সাইদুর রহমান, পাক রওজা শরীফের খাদেম আলহাজ্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, সচিব আবু মাসুদ, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের কর্মকর্তা ইকবাল মাসুদ, নলতা এ.এম.আর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আহছানিয়া মিশনের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, শিক্ষক মোঃ ইউনুস, নলতা জামে মসজিদের খতিব গোলাম কিবরিয়া, সাংবাদিক আবুল কালাম বিন আকবার, সাংবাদিক রফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
পরামর্শ সভায় আলোচনায় অংশ নেন নলতা আহছানিয়া মিশন দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রমিজ উদ্দীন, হাফেজ হাবিবুর রহমান, আহছানিয়া মিশনের কর্মকর্তা আলহাজ্জ মালেকুজ্জামান ও ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম। এসময় পীর সাহেবের আওলাদসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আহছানিয়া মিশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সদস্য এবং এলাকার বিশিষ্ট দানবীরগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দিন দিন ওরছ শরীফে আগত ভক্ত ও আশেকানদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অনুষ্ঠান পরিচালনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ অবস্থায় সকল আহছানিয়া শাখা মিশন ও শুভানুধ্যায়ীদের যার যার অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানান বক্তারা। পাশাপাশি ওরছ চলাকালীন আগত মেহমানদের আবাসন ও খাবারের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও আলোচনা করা হয়।
সভা শেষে জামাতের সাথে যোহরের নামাজ আদায় এবং মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে পরামর্শ সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।