একরামুল ইসলাম
কয়েক দিনের ব্যবধানে যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া এলাকায় আবারও ভ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। গরিব ও অসহায় ভ্যানচালকদের টার্গেট করে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পরিচয়ে অভিনব কৌশলে একটি ভ্যান চুরি করে নিয়ে গেছে প্রতারক চক্র। এতে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার দুপুরে বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সোনাতনকাটি বেদেপাড়ার বাসিন্দা খোকন মোল্লাহ (৬০)-এর ভ্যানটি চুরি হয়। তিনি মৃত হালিম মোল্লাহর ছেলে এবং পেশায় একজন ভ্যানচালক।
ভুক্তভোগী খোকন মোল্লাহ জানান, একটি মোটরসাইকেল আরোহী বসতপুর যাওয়ার কথা বলে তার ভ্যানে ওঠেন এবং তাকে বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছালে ওই ব্যক্তি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আসছেন। কিছুক্ষণ পর আরেকজন ব্যক্তি এসে নিজেকে বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পরিচয় দেন।
পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল আরোহীকে এক হাজার টাকা দিয়ে মিষ্টি কিনে আনতে পাঠান। মিষ্টি নিয়ে ফিরে এলে প্রতারক খোকন মোল্লাহকে বাগআঁচড়া দারুণ আমান ট্রাস্ট ও একটি স্কুলসংলগ্ন বাড়ির নিচে নিয়ে যান এবং মিষ্টিগুলো বাসার ভেতরে রেখে আসতে বলেন। ভেতরে ঢোকার সময় জানানো হয়, বাড়িতে কেউ নেই।
কিছুক্ষণ পর বাইরে এসে খোকন মোল্লাহ দেখতে পান, তার ভ্যানটি আর সেখানে নেই। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে খোকন মোল্লাহ বলেন, এই ভ্যানটাই আমার সব সম্বল। অনেক কষ্ট করে বিভিন্ন জায়গা থেকে কিস্তি তুলে ভ্যানটা কিনেছি। আমার নিজের কোনো জমিজমা বা ঘরবাড়ি নেই, অন্যের জায়গায় থাকি। এই ভ্যান দিয়েই আমার দুই বেলার খাবার চলতো। ভ্যানটা হারিয়ে আমি আজ পুরোপুরি পথে বসে গেছি।
স্থানীয়রা জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও কয়েক দিন আগে একই এলাকায় একই কৌশলে ভ্যান চুরির ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে তখন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতারক চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের নিয়মিত টহল ও নজরদারির অভাবে প্রতারক চক্র সহজেই গরিব ও অসহায় ভ্যানচালকদের টার্গেট করে অপরাধ সংঘটন করছে। দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এখনো পর্যন্ত ভ্যান চুরির ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।