হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এআই পরিচালনায় একটি অভিন্ন জাতীয় কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে অঙ্গরাজ্যগুলোর পৃথক বিধিনিষেধ এআই শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি না করে।
হোয়াইট হাউসের সহকারী উইল শার্ফ জানান, এই আদেশ প্রশাসনকে এমন পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়, যার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি কেন্দ্রীয় নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, “অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কঠোর ও বিচ্ছিন্ন নিয়ম এআই শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এই আদেশ তা প্রতিরোধ করবে।”
এআই ও ক্রিপ্টো বিষয়ক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস বলেন, নির্বাহী আদেশটি কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ফেডারেল কাঠামো তৈরির পথ সুগম করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনকে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে না।
এর আগে জুলাই মাসে কংগ্রেস রিপাবলিকানদের একটি প্রস্তাব বাতিল করে, যেখানে ১০ বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর এআই আইন কার্যকরে স্থগিতাদেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। একইভাবে জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনে (NDAA) এআই সংক্রান্ত স্থগিতাদেশ যুক্ত করার প্রস্তাবও নাকচ হয়।
সিলিকন ভ্যালির অনেক প্রযুক্তি নেতা মনে করছেন, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন আইন এআই উদ্ভাবনের গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে ফেলতে পারে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মত তাদের।
তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত শিথিল নীতিমালার ফলে এআই প্রযুক্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা, নিয়োগ, আইন প্রয়োগ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগসহ নানা ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও সার্বিক তদারকি এখনও সীমিত।
এরই মধ্যে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য বিভ্রান্তিকর ডিপফেক, নিয়োগে বৈষম্যসহ এআইয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার ঠেকাতে নিজস্ব আইন প্রণয়ন করেছে।
এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও বিভক্তি স্পষ্ট। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ডেভিড স্যাকসের মতো নেতারা হালকা নিয়ন্ত্রণের পক্ষে থাকলেও ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিসসহ অনেকে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কঠোর নজরদারির পক্ষে মত দিচ্ছেন।
আমেরিকানস ফর রেসপনসিবল ইনোভেশনের প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড কারসন এক বিবৃতিতে বলেন, এই নির্বাহী আদেশ আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অপরদিকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান আন্দ্রিসেন হোরোভিটজের সরকারি সম্পর্ক প্রধান কলিন ম্যাককুন একে “গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করে কংগ্রেসকে দ্রুত কার্যকর আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন