মিজানুর রহমান
সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবা যেন এক সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।দালাল দৌড়াতে কারণে প্রতিদিনই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত সেবা গ্রহীতা।এরসাথে জড়িয়ে আছে খোদ সরকারি হাসপাতালে কর্মকর্তা কর্মচারীরা।যাদের সিন্ডিকেটের কারণে হাসপাতালে সেবা থেকে প্রতিদিনই বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আশা রোগী গণ। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে,এবার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে এক অসহায় নারীর কন্ঠের মাধ্যমে। যেখানে এই নারী চিকিৎসা নিতে এসে কিভাবে প্রতারণা শিকার হচ্ছে তার বর্ণনা করছেন ভুক্তভোগী নারী। খোঁজ নিয়ে জানা যায় হাসপাতালে সমস্ত ধরনের টেস্ট থাকার পরেও, হাসপাতালে কর্মকর্তা কর্মচারী, বাহিরে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল সাথে সিন্ডিকেট করে,তাদেরকে ওই সব হাসপাতাল গুলোতে পাঠান,বিভিন্ন ধরনের টেস্ট করে নিয়ে আসতে,যেখানে সরকারি হাসপাতাল থেকে কয়েক গুণ টাকা বেশি খরচ হয়। এতে গ্রাম থেকে আসা অসহায় গরিব মধ্যবিত্তদের জন্য ক্যান্সার চিকিৎসা করে ওঠানো হয় না। যার ফলে ক্যান্সার রোগ ধীরে ধীরে আরো জটিল আকার ধারণ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অপারেশন রোগীদের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত নামমাত্র মূল্যে বেড থাকার পরও , রোগী সময় মত বেড পায় না ।যার ফলে রোগীদের দালালদেরকে বেশি টাকার বিনিময়ে বেড নিতে হয়। রেডিও থেরাপির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় মেশিন নষ্ট আছে বলে, তাদেরকে বাহিরে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া কেমোথেরাপির ক্ষেত্রেও অসহায় রোগীদের জন্য ফ্রি ওষুধ থাকার পরও তাদেরকে ফ্রি ওষুধ দেওয়া হয় না, বিভিন্ন কৌশলে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। বিভিন্ন ধরনের টেস্ট ও পরীক্ষার জন্য লাইনগুলো তো দেখা যায় যে ৪০০/ ৫০০ টাকা সিরিয়াল বরাদ্দ করা হয়। এতে দেখা যায় গ্রাম থেকে আসো অসহায় একজন রোগীর ব্যক্তি সময় মত পরীক্ষা বা টেস্ট করাতে পারেন না। এতে রোগী ও তার সাথে আশা ব্যক্তি বাহিরে হোটেল ভাড়া নিয়ে থাকতে গেলে,তার উপর বাড়তি অর্থনীতি চাপ পড়ে যায়। এর ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় রোগী ও তার স্বজনদের কে দালালদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়। এ চিত্র শুধু মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল নয় বাংলাদেশে প্রত্যেকটি সরকারি হাসপাতালগুলোতে। আর কবে মুক্তি পাবে এসব অসহায় ও মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো? যেখানে সবার জন্য চিকিৎসা সেবা মান সমান বলবৎ থাকবে।
মন্তব্য করুন