মো আমিনুল ইসলাম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ শয্যার ভবন নির্মাণের প্রকল্পটি অনুমোদন হয় ২০২৩ সালে।ওই বছরের শুরুতেই পুরাতন ভবনটি ৮ কোটি টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়।ঠিকাদার অধ্যক্ষ আজিম উল হক আধিপত্য বিস্তার করে কোন প্রতিযোগী ছাড়াই কম মূল্যে ভবনটি ক্রয় করে। ১০ মাস ধরে দাম কষাকষি করে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। আর এতে নতুন ভবনের কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,পুরাতন ভবনটি ওপেন টেন্ডারের নামে কৌশলে প্রাপ্ত ঠিকাদারকে ১ মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয় টেন্ডার কমিটি।কিন্তু ঠিকাদার একটি কলেজের অধ্যক্ষ এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় ওই নির্দেশের তোয়াক্কা করেননি তিনি।চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খোলেনি জোয়ারে গাঁ ভাসিয়ে দেওয়া টেন্ডার কমিটি।১০ মাস সময় নিয়ে ঠিকাদার ১২ লাখ টাকা লাভ করলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিকিৎসা সেবা।নতুন ভবনের কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে মঠবাড়িয়া সহ পার্শ্ববর্তী বামনা, পাথরঘাটা ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার মানুষ।
এছাড়াও মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়সারা মনোভাবের কারনে হাসপাতালটি দিনদিন পুরনো ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে।৪ একর জমির হাসপাতালের দখলে আছে মাত্র ৩ একর।দখল হওয়া জমি উদ্ধারে নেই কোন তৎপরতা। একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিবছরই হাসপাতালের জমি দখল করলেও রহস্যজনক কারনে নিরব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অবৈধ ডিসিআরের নামে হাসপাতালের জমিতে কয়েক'শ দোকান স্থাপন করলেও তা দেখার কেউ নেই।এমনকি ৫ আগস্টের পরেও কোন পদক্ষেপ নেই উচ্ছেদ অভিযানের।
মন্তব্য করুন