জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 10-ডিসেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আজ মাদারীপুর মুক্ত দিবস

 
 শাখাওয়াত হোসেন মোল্লা 

আজ, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) মাদারীপুর মুক্ত দিবস।
 ১৯৭১ সালের (১০ ডিসেম্বর) এই দিনে মাদারীপুর  সদর উপজেলার সমাদ্দার ব্রিজের কাছে টানা ৩৬ ঘণ্টা সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বীর  মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে মুক্ত হয় মাদারীপুর জেলা।
এ সংবাদ মুক্তিকামী মানুষের কাছে পৌঁছালে বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসে আনন্দ উল্লাস করে। এই যুদ্ধে শহীদ হন মাদারীপুরের সর্ব কনিষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু।
সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলার সবক'টি থানা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে। এ কারণেই পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা মাদারীপুর শহরের এ.আর হাওলাদার জুট মিলের অভ্যন্তরে ও নাজিমউদ্দিন কলেজে অবস্থান নেয়।
মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে তাদের ঘিরে রাখে। তবে গোপন সংবাদে জানা যায়, পাক বাহিনী মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাবে।
এ সংবাদ পেয়ে, বিভিন্ন অঞ্চলের ৩ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা বর্তমান সদর উপজেলার ঘটকচর থেকে সমাদ্দার ব্রিজের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত মহাসড়কের দু’পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার ব্যাপী অবস্থান নেয়।
৯ ডিসেম্বর ভোর ৫ টায় হানাদার বাহিনী গোলাবারুদ, অস্ত্র ও কনভয়সহ তাদের বাঙালি দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামস ও মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে ঘটকচর ব্রিজ পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ শুরু করে।
তুমুল যুদ্ধের একপর্যায়ে হানাদার বাহিনীর গোলা-বারুদ স্তিমিত হয়ে আসলে ১০ ডিসেম্বর বিকেলে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে হ্যান্ডমাইকে পাকবাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়।
এতে সাড়া দিয়ে হানাদার বাহিনী মেজর আবদুল হামিদ খটক ও ক্যাপ্টেন সাঈদ, ৩৭ পাকসেনা, ১৪ জন মুজাহিদ নিয়ে মোট ৫৩ জন মুক্তিযোদ্ধা খলিল বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মাদারীপুর শত্রুমুক্ত হয়। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল খলিল বাহিনী। যুদ্ধে শহীদ হন মাদারীপুরের সর্ব কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু। এ যুদ্ধে ২০ হানাদার সেনা নিহত হয়।
প্রতি বছর (১০ ডিসেম্বর) মাদারীপুর মুক্ত দিবস যথাযথভাবে উদ্‌যাপনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এবারও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন খলিল বাহিনীর প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা ১০ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখে যুদ্ধ করে মাদারীপুরকে হানাদার মুক্ত করি। মাদারীপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক  নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম 

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় ওয়াজ মাহফিলে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাইলেন এইচ এস মাফ

1

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে শিক্ষায় উৎসাহের বার্তা

2

নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় সাংবাদিক মিলন ও হাবিব আহত,হামল

3

কোম্পানীগঞ্জের নভাগী অবৈধ বালু পাথর বাহী ট্র্যাক্টরের তাণ্ডব

4

সরাইলে মাধ্যমিকের ২৬.২১, মাদ্রাসার ৪৬.৩৭ ভাগ বই আসেনি, সংকট

5

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা

6

"রাজবাড়ী জেলা পুলিশের অভিযানে ০২ টি বিদেশী পিস্তল এবং গুলিসহ

7

মুরাদনগরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন

8

নির্বাচিত হলে শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবো

9

বাগেরহাটে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম

10

দিনাজপুরে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের উদ্যোগে দোয়া ও ম

11

নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ

12

ভোলায় ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে জেলা তথ্য অফিসের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

13

ঈশ্বরদীতে জেলা প্রশাসনের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন ও নির্বাচনী মহড়

14

নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ

15

পার্বতীপুরে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের মাসিক স

16

নকল দুধ তৈরিতে অভিযুক্ত আবুল বাশার ধরাছোঁয়ার বাহিরে

17

দেশে একপক্ষীয় নির্বাচনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে: চরমোনাই পীর

18

ভালুকায় যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী

19

গোবিন্দগঞ্জে বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কাম

20