মো.মেহেদী হাসান
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় জমাট বাঁধা ইউরিয়া সার সরবরাহ করেছে বিসিআইসি। স্থানীয় উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের মতে, জমাট বাঁধা সার জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিতে প্রয়োগ করলেও তেমন কাজে আসবে না। এতে এসব সারের গুণগত মান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জমাট বাঁধা সার সরবরাহের কথা স্বীকার করলেও গুণগত মান নষ্ট হয় না বলে দাবি করেছেন।
জানা যায়, উপজেলায় বিসিআইসির নিবন্ধিত ৭ জন ডিলার রয়েছে। চলতি রবি ও বোরো মৌসুমে উপজেলার কৃষকদের চাহিদা মেটাতে প্রত্যেক ডিলারকে ২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত সপ্তাহে জেলার নগরবাড়ি এলাকার বিসিআইসি এর গুদাম থেকে উপজেলার ডিলারদের বরাদ্দকৃত সার সরবরাহ শুরু হয়। এতে সার সংগ্রহের পর ডিলাররা জমাট বাধা সার দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি কোনো প্রতিকারের উদ্যোগ নেননি। উপরন্তু তিনি বিষয়টি গোপন রেখে এই সার কৃষকের মাঝে দ্রুত বিক্রির জন্য ডিলারদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
সূত্র জানায়, ভাঙ্গুড়া সহ আশেপাশের উপজেলার ডিলারদের জন্য বরাদ্দকৃত সার নগরবাড়ী এলাকা থেকে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু নগরবাড়ি এলাকায় সার সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে পূর্বে থেকেই। ফলে এর আগেও মাঝেমধ্যেই ডিলারদেরকে জমাট বাঁধা সার সরবরাহ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এসব ইউরিয়া সার অব্যবস্থাপনায় সংরক্ষণ করা ছিল। এতে সার জমাট বদ্ধ হয়েছে।
বিসিআইসি ডিলার নুরুল ইসলাম বলেন, আমার ৫ শ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ ছিল। এবারের ইউরিয়া সার জমাটবদ্ধ অবস্থায় এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিলার বলেন, সার সংগ্রহের পরে জমাট বাধা অবস্থায় পাওয়া গেলে কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হয়। কিন্তু তিনি কোন প্রতিকার করেন না। ফলে এসব সার কোন সময় বিশেষ ব্যবস্থায় জমাট ভেঙে কৃষকদের কাছে বিক্রি করতে হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে ডিলারদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।
সরকারি ভাঙ্গুড়া হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোঃ রবিউল করিম বলেন, আদ্র ও স্যাতসেতে পরিবেশে সার সংরক্ষণ করার কারণে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে সার জমাট বেঁধে যেতে পারে। কারণ এতে সারের বুনন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে জমাট বাঁধা সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটির ব্যাকটেরিয়া সারের রাসায়নিক পদার্থগুলো গ্রহণ করবে না। এমন সার প্রয়োগে মাটির উর্বরতা শক্তি তেমন বৃদ্ধি পাবে না। কৃষক এই সার জমিতে প্রয়োগ করলে কাঙ্খিত ফল পাবে না।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন, শুনেছি ইউরিয়া সার জমাট বাঁধা অবস্থায় এসেছে। সার জমাট বাঁধতেই পারে। এতে গুণগত মানের কোনো সমস্যা নেই। তাই ডিলারদের বিক্রি করতে বলা হয়েছে।