আবু সায়েম
দলীয় নীতি ও সংগঠন পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে নওগাঁ–১ (পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুর) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. ছালেক চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—দলীয় নীতি ও সংগঠন পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা পোস্টকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি ডা. ছালেক চৌধুরী বলেন—
“বহিষ্কারের বিষয়টি এখনো আমি জানি না। এ ধরনের কোনো নোটিশ আমার কাছে আসেনি। আমি কোনো দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করিনি। আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম এবং আজ আমার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এরপর সেটি প্রত্যাহার না করলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গ হতো।”
তিনি আরও বলেন—
“নেত্রীর মৃত্যুতে তারেক রহমান এই মুহূর্তে শোকাহত। দলের ভেতর থেকে যারা এসব কাজ করছে, তারা একদিন তার ফল ভোগ করবে।”
উল্লেখ্য, ডা. ছালেক চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ, জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন, যা যাচাই–বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে একই আসনে এবারের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বহিষ্কারাদেশটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে জারি করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।