ইসমাইল হোসেন হাদী
দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসাথে প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মারশেকুল আলমকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাহিদুল ইসলাম সবুজকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাবের হলরুমে অনুষ্ঠিত সদস্যদের বিশেষ জরুরি সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবের তহবিল থেকে অসংগতিপূর্ণভাবে প্রায় ২২ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বারবার লিখিতভাবে হিসাব চাইলেও তারা কোনো বিবরণ দেননি। তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে
সভা সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের একটি ঘরের ডিড জালিয়াতির অভিযোগও উত্থাপিত হয়, যা নির্বাহী কমিটির সভায় প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক অধিকাংশ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে “ফ্যাসিস্ট” ও “নাশকতা পরিকল্পনাকারী” হিসেবে মন্তব্য করেন—যা সদস্যরা প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তির জন্য গুরুতর ক্ষতিকর হিসেবে মনে করেন।
সভায় আরও বলা হয়, তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বহুবার সংগঠনের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন। এসব বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জরুরি সভায় থাকা সদস্যদের দাবি, প্রেসক্লাবের স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত দুই নেতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাবও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক ও মাসুদ রানার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে সাধারণ সদস্যরা বলেন, এই সিদ্ধান্ত প্রেসক্লাবকে নতুনভাবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
মন্তব্য করুন