শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রশাসন আন্দোলন, হলে অস্ত্র ও মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১৯ জনকে আজীবন এবং ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় গত বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার (২৭ আগস্ট) রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তবে বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরপরাধ কয়েকজনও রয়েছেন। তারা পুনঃতদন্তের দাবি তুলেছেন।
হাফিজুর ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী সামাজিক মাধ্যমে লিখেন, শাবিপ্রবি কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাকি ক্ষমতার দুর্গ? যারা অস্ত্র কিংবা হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, শুধু হলে থাকা বা রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাদের আজীবন বহিষ্কার অন্যায়।
আরেক শিক্ষার্থী রিয়াজ হোসেন মন্তব্য করেন, যাদের প্রতি জুলুম করা হয়েছে, পরবর্তী সিন্ডিকেট মিটিংয়ে অবশ্যই তাদের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।” তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের মাহাবুব, পিএমই বিভাগের সাইমুন, বাংলা বিভাগের অজয় ও বিবিএ বিভাগের নিপেশের নাম উল্লেখ করে বলেন, নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার দিতে হবে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, তদন্ত কমিটির গাফিলতির কারণে নিরপরাধ কয়েকজন শাস্তির মুখে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরাই সবসময় ভিক্টিম। পুনরায় তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম জানান, তদন্ত কমিটি গণহারে বহিষ্কার করেনি। হলে অস্ত্র ও মাদক পাওয়া কক্ষে যাদের দায়মুক্তির প্রমাণ ছিল, তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে কেউ মনে করলে যে তিনি নিরপরাধ হয়েও বহিষ্কৃত হয়েছেন, সেক্ষেত্রে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।