আবু সায়েম
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ৬নং পাঁড়ইল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বিদিরপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত সরকারি গোরস্থান নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর বহু দিনের দাবি ও সক্রিয় অংশগ্রহণে ১৭টি খাস পুকুর সরকারিভাবে লিজ নিয়ে গোরস্থান নির্মাণের কাজ চলছে।
বিগত সময়ের প্রেক্ষাপট:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে পূর্ববর্তী রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিদিরপুর এলাকার ১৭টি খাস পুকুর সরকারি আইনে গোরস্থান হিসেবে বরাদ্দ থাকলেও তা কার্যত ব্যবহৃত হচ্ছিল না। আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি গোরস্থানের নামে এসব খাস পুকুর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাছ চাষ ও অর্থলুটপাট করে আসছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ—এতে সরকারি সম্পদ হরণ হয়েছে এবং এলাকাবাসীর ধর্মীয় ও সামাজিক প্রয়োজন উপেক্ষিত হয়েছে।
পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগ:
বিগত পাঁচ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে খাস সম্পদ পুনরুদ্ধারের দাবি তোলে। তাদের উদ্যোগ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৭টি খাস পুকুর সরকারিভাবে লিজ নিয়ে “বিদিরপুর সরকারি গোরস্থান” নির্মাণের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়।
এলাকার মানুষ এ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। বহু বছর ধরে সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ব্যবহারযোগ্য গোরস্থানের অভাব ছিল। ফলে স্থানীয় জনগণ ধর্মীয় রীতি ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় উপযুক্ত পরিবেশ পেতেন না। এখন নতুনভাবে নির্মিত হতে যাওয়া গোরস্থান সেই সংকট দূর করবে বলে প্রত্যাশা করছেন সবাই।
গোরস্থান নির্মাণের অগ্রগতি:-
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি শহীদুল দেওয়ান এ কাজের সার্বিক তদারকি করছেন। তার নেতৃত্বে নির্মাণকার্য সুচারুভাবে এগিয়ে চলছে। এলাকাবাসীর মতে, তিনি ব্যক্তিগত সময় ও শ্রম দিয়ে গোরস্থানের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন।
এ কাজে সহযোগিতা করছেন গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি নবীউল্লাহ ওরফে নবী। তিনি প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সরকারি কাগজপত্র যাচাই, জমি মাপজোখ ও স্থানীয় লোকজনকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া:-
স্থানীয় জনগণ মনে করছেন—
খাস সম্পদ পুনরুদ্ধার এ উদ্যোগ সুশাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রয়োজন পূরণ হবে।
সরকারি খাস পুকুর থেকে অবৈধ দখল ও লুটপাট বন্ধ হয়েছে।
ধর্মীয় মর্যাদা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত হবে।
বিদিরপুর সরকারি গোরস্থান নির্মাণ কেবল একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি স্থানীয় জনগণের ঐক্য, ন্যায্য অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ নির্মাণের প্রতীক। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল উদ্যোগে খাস সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ায় এলাকাবাসী আশা করছেন—এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।
এলাকার যুবসমাজ বিদিরপুর সরকারি গোরস্থান রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ এবং কোন অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার।