জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 28-জানুয়ারী-2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ভোটের অধিকার বনাম ভাতের লড়াই


এমডি জীবন 
ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি 
২০২৬
বাংলাদেশে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ঘিরে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে নতুন এক গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাঁটিয়ে দেশ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
**১. ১২ কোটি ভোটারের নতুন সমীকরণ:- নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে প্রায় কয়েক কোটি তরুণ ভোটার রয়েছেন, যারা প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তরুণ সমাজের কাছে এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং বাকস্বাধীনতা ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের একটি পথ। রাজধানীর ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদ-সর্বত্রই প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সততা নিয়ে আলোচনা চলছে।
**২. বাজার পরিস্থিতি ও ভোটারের দাবি:- তৃণমূল পর্যায়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগ এখন দ্রব্যমূল্য। সাধারণ শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে 'ভোট' মানেই হলো নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার নিশ্চয়তা। সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার এবং বেকারত্ব দূরীকরণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া কোনো দলের ইশতেহারই ভোটারদের পূর্ণ সন্তুষ্ট করতে পারছে না। সাধারণ মানুষের স্লোগান এখন স্পষ্ট-"আগে ভাতের নিশ্চয়তা, তবেই ভোটের সার্থকতা।"
**৩. প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা চিত্র:- একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্ক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী (In Aid to Civil Power) মোতায়েন থাকবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দেশি ও বিদেশি প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
**৪. রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও অংশগ্রহণ:- নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও রাজপথে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক দলের (এনসিপি) প্রচারণাই সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। তবে বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিষ্ণুতার অভাব এবং বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা জনমনে শঙ্কাও জাগাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আনা এবং নির্বাচনি সংঘাত এড়ানো।
সারকথা হলো, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখন আর কেবল প্রতিশ্রুতির ফুঁলঝুরি চায় না। তারা চায় এমন এক জনপ্রতিনিধি, যিনি উন্নয়নের চেয়ে জবাবদিহিতাকে এবং সংঘাতের চেয়ে শান্তিকে প্রাধান্য দেবেন। ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট-ই বলে দেবে আগামীর বাংলাদেশের গতিপথ কোন দিকে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তুহিনকে হত্যার প্রতিবাদে রাউজান প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সভা ও

1

আগৈলঝাড়ায় শাটডাউন কর্মসূচি উপেক্ষা করে বাশাইল বাজারে স্বাভাব

2

শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ

3

জয়পুরহাট-০২ আসনে বিএনপির ছয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর মাঝে জামায়াত এ

4

মানববন্ধনে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ

5

দৌলতপুরে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবি দলের সভাপতি এরশাদ সম্পাদক রি

6

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ২ মাদক ব্যবস

7

রায়গঞ্জে ক্ষিরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিজয় দিবস ২০২৫

8

সুবিধাবঞ্চিত নারীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

9

বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করে জেলা

10

মঞ্চে গাইছিলেন ‘পাসুরি’ গায়িকা, হঠাৎ ড্রোন তেড়েফুঁড়ে এল

11

চৌদ্দগ্রামে আগ্নেয়াস্ত্র সহ এক যুবক আটক

12

মঠবাড়িয়ায় অটো রিকশাচালক হৃদয় হ"ত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের

13

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত.

14

শেখ হাসিনার রায় নিয়ে নাশকতা ঠেকাতে নিয়ামতপুরে বিএনপির অবস্থা

15

কুয়েটে ‘বই উৎসব-২০২৫’ এর শুভ উদ্বোধন

16

নওগাঁয় পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে রানীনগরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠ

17

বান্দরবানের,আলীকদমে সেনাবাহিনীর, উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা

18

ভার্থখলা থেকে গাঁজাসহ যুবক আটক

19

উল্লাপাড়ায় বিএনপির ১১ নেতার পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবিত

20