কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। দ্বৈত নাগরিকত্ব (যুক্তরাজ্য) ত্যাগের যথাযথ প্রমাণপত্র দাখিল করতে না পারায় আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘোষণার পরপরই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন জামায়াত-শিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
ঘটনার বিবরণ:
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় মাহবুবুল আলমের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে আসায় তার প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছিল। নাগরিকত্ব ত্যাগের দালিলিক প্রমাণ জমা দেওয়ার জন্য তাকে আজ রোববার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। তবে আজ নির্ধারিত সময়ে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করেন।
প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া:
মনোনয়নপত্র বাতিলের পর মাহবুবুল আলম সালেহী সাংবাদিকদের বলেন, "আমাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহের যথাযথ সুযোগ না দিয়েই একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন ও পেমেন্টের কপি দেখিয়েছি, কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি।" তিনি এই সিদ্ধান্তকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করেন এবং এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার ঘোষণা দেন।
অফিসে উত্তেজনা ও বিক্ষোভ:
ফলাফল ঘোষণার পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের কথা কাটাকাটি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে বাইরে অপেক্ষমাণ প্রায় ২৫০-৩০০ নেতাকর্মী ডিসি অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্য:
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রার্থীর দাখিল করা কাগজে অসংগতি থাকায় আইন অনুযায়ী এটি বাতিল করা হয়েছে। তবে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী ৫ থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন