চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন রাউজানের বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আবদুল হাকিম। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের মদুনাঘাট বাজারের পানি শোধনাগার মূল ফটকের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুল হাকিম রাউজান বাগোয়ান ইউনিয়নের পাঁচখাইন গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি প্রাইভেট কারে চড়ে রাউজান থেকে চট্টগ্রাম শহরে ফিরছিলেন। আকস্মিক এই হামলায় তিনি ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে গাড়িতে থাকা আরও এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আবদুল হাকিম রাউজানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে বিশেষভাবে সক্রিয় হন। তিনি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী। নিহত আবদুল হাকিম প্রায় এক বছর ধরে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলনের ব্যবসা করছিলেন।
গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা এই হত্যাকাণ্ডকে 'টার্গেট কিলিং' বলে দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
রাউজানে বিএনপির রক্তক্ষয়ী সংঘাত
এই হত্যাকাণ্ড আবারও রাউজানে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত শুধুমাত্র রাউজানেই বিএনপির নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় দেড় ডজন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, একই সময়ের মধ্যে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে অন্তত শতাধিকবার, যাতে ৩০০-এরও বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সর্বশেষ আবদুল হাকিমের এই মৃত্যু এই অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সংঘাতের আরও একটি রক্তক্ষয়ী পরিণতি বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হামলাকারী বা এই ঘটনার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।
প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন: রাউজানে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রধান কারণ কী? অথবা, এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে কি?