জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 8-জানুয়ারী-2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মিনিয়াপলিসে গুলির ঘটনা ও ভাঙা আমেরিকার রাজনীতি

মোঃ রাতুল হাসান লিমন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে এক অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা আবারও নগ্ন করে দিয়েছে দেশটির গভীরভাবে বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতা। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে এই সহিংসতা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনারই প্রতিফলন।
বুধবার মিনিয়াপলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)–এর এক এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নামে এক নারী নিহত হন। ঘটনার পরপরই সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোর রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতারই অংশ। ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে দুই দফা হত্যাচেষ্টা, মিনেসোটার জনপ্রিয় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা মেলিসা হর্টম্যান ও তাঁর স্বামীর হত্যাকাণ্ড, নিউইয়র্কে এক স্বাস্থ্যবীমা নির্বাহীর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা কিংবা গত সেপ্টেম্বরে MAGA সমর্থকদের কাছে পরিচিত চার্লি কির্ক হত্যাকাণ্ড—সব মিলিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে সহিংসতা যেন নতুন স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব ঘটনার শিক্ষা হলো—রাজনীতি অনেক সময় জাতিকে ঐক্যের পথে না নিয়ে গিয়ে আরও গভীর বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, এমন সহিংসতার পরও যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়ভাবে কোনো স্থায়ী সমাধান বা মানসিক স্বস্তি খুঁজে পায়নি।
এদিকে বড় শহরগুলোতে আইসিই এজেন্টদের তৎপরতা নিয়েও বাড়ছে বিতর্ক। অনেক ক্ষেত্রে মুখোশ পরা এজেন্টদের বিরুদ্ধে বেআইনি ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠছে। কখনো কখনো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও অভিযানের শিকার হচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ফেডারেল এজেন্টদের সঙ্গে অভিবাসনপন্থী কর্মীদের সংঘর্ষ কিংবা গাড়ি ধাক্কার মতো ঘটনাও ঘটছে।
আইসিই কর্মকর্তারা গত অক্টোবরে জানান, এজেন্টদের ওপর হামলার ঘটনা এক বছরে প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে মিনিয়াপলিসে এক অভিযানের সময় একজন কর্মকর্তা গাড়ির সঙ্গে টেনে নেওয়ার শিকার হন।
এই প্রেক্ষাপটে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসছে—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে অভিবাসন দমননীতি যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ করার কথা বলছেন, তা কি বাস্তবে দেশকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে?
ঘটনার নির্দিষ্ট দায়–দায়িত্বের প্রশ্নে তদন্ত চললেও, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকা যেকোনো সাধারণ নাগরিকই এখন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
গণতান্ত্রিক একটি সমাজে এই মাত্রার ভয় ও অনিশ্চয়তা আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আমেরিকার রাজনীতি ও জনজীবনে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অবৈধ ইটভাটা বন্ধের পক্ষে এলাকাবাসী

1

সঠিকভাবে যাকাত দিলে কাউকে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে নিতে হতো না:

2

হোসেনপুরে কুখ্যাত বাউল শিল্পী আবুলের শাস্তির দাবিতে আলেমদের

3

স্বামী–স্ত্রীর একযোগে বিএনপির ৩১ দফা প্রচারণা

4

সাংবাদিকদের প্রতিমাসে প্রশিক্ষণ কর্মশালা বাস্তবায়নের কমিটি গ

5

‎দুই কর্তৃপক্ষের ঠেলাঠেলিতে ঝুঁকিতে শিশু ও স্কুলগামী শিক্ষার

6

স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও উন্নয়নহীন চৌউরাশ-হরিনাচালা সড়ক

7

শিবগঞ্জের মনাকষা বাজারে আবর্জনার স্তূপ, জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি

8

ভাঙ্গুড়ায় বিস্ফোরণ মামলায় পৌর আ. লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

9

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও আরাফাত রহমান কোকোর মাগফিরাত কামনায়

10

পাবনা ০৩ধানের শীষের প্রার্থী তুহিন এর বিশাল জনসভা

11

মাট থেকে ব্যারাকে সেনাবাহিনী

12

ঘাটাইলে বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় মহিলা দলের দোয়া মাহফ

13

শীতের রাতে ঘুমন্ত শিশুদের শরীরে কম্বল জড়িয়ে দিল ডিমলা উপজেলা

14

জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটি

15

দেশকে অস্থির করে তোলার জন্য কিছু লোক পেছন থেকে কাজ করছে; মির

16

নোয়াখালী জেলা বিএনপি'র সতর্কতা নোটিশ জারি

17

পটুয়াখালীর দশমিনায় ককটেল বিস্ফোরণ ও লুটপাট ঘটনায় মামলা

18

আদমদীঘিতে ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী পালাক্রমে ধর্ষনের শিকার গ্রেপ্

19

ঈশ্বরগঞ্জে কলেজের ভর্তির নামে চলছে লুটপাট, অধ্যক্ষের রুমে তা

20