সারাফাত ইসলাম
খুলনার কয়রা উপজেলার বেজপাড়া হায়াতুন্নেসা দাখিল মাদ্রাসার নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটি বিধি সম্মত না হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনা নিয়ে এলাকা জুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী অভিভাবক মহলে ব্যাপক চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে মাদ্রাসার দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সন্তান মাসুম বিল্লাহ গত ৩০/৯/২৫ তারিখ বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্টার এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূএে জানা গেছে, বেজপাড়া হাইতুন্নেসা দাখিল মাদ্রাসা সুপার কিছু অসৎ লোকের কু পরামর্শ মনগড়া ভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছেন।
সকল ধরনের নির্বাচন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বেজপাড়া হায়াতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হয়নি। শিক্ষক শ্রেণীর ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ নেই এবং সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষকের কোন ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়নি। এছাড়া দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা শ্রেণীর কোন ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়নি এবং ভোটার তালিকা শ্রেণি কক্ষেপড়ে শোনানো হয়নি। ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা দিয়ে পাতানো নির্বাচন সম্পূর্ণ ভুলে ভরপুর ইংরেজি ১৭/৮/২৫ তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছেন যা ভোটারদের জানতে বুঝতে দেয়া হয়নি। ভোটার তালিকা যথাযথ না করে স্বার্থন্বেষী মাদ্রাসার সুপার ও কর্তৃপক্ষ অসৎ চরিতার্থ করার মানষে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছেন। উক্ত ভোটার তালিকায় ১৭ নং ভোটার মোঃ শাহপরান সানা,(ছাএ - ইউসুফ সানা,৬ষ্ঠ,গ্রাম খেওনা) ও ১২৪ নং ভোটার মোঃ শাহপরান সানা (ছাএ- রাজিবুল্লাহ,৯ম গ্রামঃ খেওনা,) একই ব্যক্তি। ১৮ নং ভোটার কবিরুল ইসলাম (ছাএ- মোঃ তামীম,৫ম, গ্রামঃ খিরোল, ও ৮২ নং ভোটার কবিরুল ইসলাম (ছাএ - মোঃ তামিম,৭ম,গ্রাম- খিরোল)একই ব্যক্তি, ২৫ নং ভোটার মোঃ আজিজুল ইসলাম (ছাএী- মোছাঃ আজমিরা খাতুন,৬ষ্ঠ, গ্রাম- খিরোল) ও ১৩৪ নং ভোটার মোঃ আজিজুল ইসলাম (ছাএ মোঃ ইসরাফিল, ৯ম,গ্রাম খেওনা) একই ব্যক্তি এবং ৫৮,ও ৭২ নং ভোটার একই ব্যক্তি। অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তিকে দুইবারের অধিক ওই হোক সদস্য পদে আসতে পারবে না। বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও ১-৩ নং বিবাদী অসৎ উদ্দেশ্যে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত নিয়ম নীতি লঙ্ঘন করে এস এম আমিরুল ইসলামকে তৃতীয়বার অভিভাবক সদস্য করেছেন। ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনটি বাংলাদেশ সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী করার জন্য দাতা সদস্য পরিবার জেলা প্রশাসক খুলনা, জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কয়রা, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কয়রা ও কমিটি গঠনের অফিসার মহসিন সাহেবের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আবেদন করা সত্ত্বেও বিষয়টি প্রিজাইটিং আমলে নেয়নি। যোগসাজসীভাবে নির্বাচনের সভাপতি পদে যাকে নির্বাচিত করা হয়েছে তিনি একজন মহিলা তার নাম ফাতিমা খাতুন, স্বামী ইসমাইল হোসেন , তিনি পেশায় একজন গৃহিণী। তাছাড়া সভাপতি পদের জন্য ডিগ্রী পাস থাকা আবশ্যক তা না হলে তিনি সভাপতি নির্বাচন করতে পারবেন না অথচ উক্ত ফাতেমা খাতুন এইচ,এস,সি / সমমান পাশ। কিন্তু কোন সনদ মাদ্রাসা বোর্ডে সাবমিট হয়নি। তা জানা সত্ত্বেও মাদ্রাসা সুপার কর্তৃপক্ষ নিয়ম বহিভূতভাবে ফাতেমা খাতুন কে যোগসাজসীর এর মাধ্যমে ইং ২৪/০৯/২০২৫ তারিখে সভাপতি নির্বাচন দেখি ফলাফল প্রকাশ করেছেন। এবং ফাতেমা খাতুন এর আইডি কার্ড অনুযায়ী এসএসসি সনদ ও এইচ,এস, সি / সমমান শোনোতে কোন মিল নেই । এ নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে মাদ্রাসার দাতা সদস্য পরিবার কয়রা সহকারি জর্জ আদালতে একটি মামলা করেছেন যার মামলা নং - দেঃ ২২৩ /২৫
কয়রায় বেজপাড়া হায়াতুন্নেছা দাখিল মাদ্রসার জুনিয়ার শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি বিধি সম্মত না হওয়ায় মাদ্রাসা বোর্ডের রেজিস্টার ও কয়রা সহকারী জর্জ আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ম্যানেজিং কমিটি ও আমাদের মাদ্রাসার সুপার মাদ্রাসায় একটি অবৈধ নিয়োগ বানিজ্যর চেষ্টা চালাচ্ছে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বেজপাড়া হায়াতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আজহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুষ্ঠ, সুন্দর ভাবে নির্বাচন হয়েছে।