নুর আমিন রহমান
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই অভিযোগ ধামাচাপা দিতেই শনিবার সাংবাদিকদের ডেকে তিনি একটি প্রেস ব্রিফিং করেন—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, অভিযানের অংশ হিসেবে তিনি ফোর্স নিয়ে উপজেলার সিন্দুর্ণা এলাকায় যান। এ সময় পথে আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন তাজুর বাড়ির সামনে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে হঠাৎ সাক্ষাৎ হলে তিনি সালাম বিনিময় করেন। তিন থেকে চার মিনিট কথা বলেই তিনি থানায় ফিরে আসেন বলে দাবি করেন ওসি।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, ওসির গাড়ি আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন তাজুর বাসার ভেতরে প্রবেশ করে এবং তিনি সেখানে উল্লেখযোগ্য সময় অবস্থান করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করেন তিনি।জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্ণা এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজুর বাসায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও আমজাদ হোসেন তাজুর পরিবার ও পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, সেটি বৈঠক নয়, বরং একটি দাওয়াতের অনুষ্ঠান ছিল।উল্লেখ্য, আমজাদ হোসেন তাজু লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী ছিলেন। তিনি একাধিক মামলার আসামি এবং বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।অভিযোগ রয়েছে, দাওয়াতের আড়ালে ওই রাতে আমজাদ হোসেন তাজুর বাসায় আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন নেতা গোপন বৈঠকে অংশ নেন। ওই বৈঠকে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে দাওয়াত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন জড়ো হতে শুরু করে। এ সময় দ্রুত ওই বাসা ত্যাগ করেন ওসি।আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে হাতীবান্ধার বাসিন্দা হলেও জেলার বাইরে কর্মরত প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আমজাদ হোসেন তাজুর স্ত্রী শাপলা আক্তার বলেন, “এটি কোনো বৈঠক ছিল না। আমাদের বাসায় একটি পারিবারিক দাওয়াতের আয়োজন ছিল। সেই দাওয়াতে ওসি এসেছিলেন।”এদিকে লালমনিরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমার সেন বলেন, “ওই বাসায় দাওয়াত খেতে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ সেখানে যান।”ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।