মনিরুজ্জামান মনির
ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ মৌলভীবাজার জেলার গৌরবময় শিক্ষা-সংস্কৃতির ধারাকে আবারও প্রাণবন্ত করতে এবং একটি শিক্ষাবান্ধব, মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সামাজিক সংগঠন ‘সুধীজন মৌলভীবাজার’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। শনিবার ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ মৌলভীবাজারের রুমেল কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট বাংলাদেশী-অস্ট্রেলীয় জীনবিজ্ঞানী ও শিক্ষামূলক রূপকল্প ২০৪৫ কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবেদ চৌধুরী।
সুধীজন মৌলভীবাজারের আহ্বায়ক প্রফেসর মো. মামুনুর রশীদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক প্রধান ডা. আব্দুল হান্নান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর নাসির উদ্দিন নোমান এবং উদ্যোক্তা মো. সাহাব উদ্দিন। সদস্য সচিব প্রফেসর সৈয়দ মুজিবুর রহমান সহ এলাকার শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সংগঠনের ভিশন ও মিশন উন্মোচন করতে গিয়ে প্রফেসর মো. মামুনুর রশীদ বলেন, “মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় একটি সমতাভিত্তিক ও গুণগত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সব শিক্ষার্থী নৈতিকতা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে বেড়ে উঠবে। আমরা চা-বাগান, হাওড় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করব।”
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, “শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি হলো সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার। মৌলভীবাজারের মতো ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলে শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন আনতে ‘সুধীজন’ এর এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা চাই এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।”
ডা. আব্দুল হান্নান স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে বলেন, “শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এই সংগঠনের আরেকটি লক্ষ্য হওয়া উচিত। সুস্থ দেহে সুস্থ মন গড়ে ওঠে।”
প্রফেসর নাসির উদ্দিন নোমান ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্ব ও ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। এদিকে, মো. সাহাব উদ্দিন যুব ও নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি দক্ষতা যুক্ত করার আহ্বান জানান।
সুধীজন মৌলভীবাজারের মূল পরিকল্পনায় রয়েছে:
১. সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাসামগ্রী ও মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা।
২. শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয়ে সচেতনতা সৃষ্টি।
৩. খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ।
৪. নারী শিক্ষা ও কর্মমুখী শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া।
সংগঠনটির লক্ষ্য হলো মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরে পড়ার হার কমানো এবং একটি নৈতিকতাভিত্তিক টেকসই সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা।
উপসংহারে বক্তারা আশাবাদ ব্যাক্ত করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মৌলভীবাজার আবারও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিকতায় প্রভাতী সূর্যের মতো আলো ছড়াবে।
সংগঠনের লক্ষ্য: “শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবতা—এই তিন মন্ত্রকে ধারণ করে সুধীজন মৌলভীবাজার কাজ করে যাবে।”
মন্তব্য করুন