এসকে মহসিন রেজা
সুন্দরবনের শ্যামনগর ও কয়রায় কোস্টগার্ডের পৃথক অভিযানে দেশি এবং বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ সময় মামুন কয়াল নামের এক অস্ত্র কারবারি সহ সোলাইমান (৫০) নামের এক ডাকাত সদস্যকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, সুলাইমান খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা তবে আটক মামুনের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়ামুল হক এসব তথ্য জানান, তিনি বলেন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে (১০ নভেম্বর) সোমবার দিবাগত রাতে কৈখালীর ভেটখালী বাজার সংলগ্ন এলাকায় যৌথ এ অভিযান চালানো হয় এ সময়ে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্র কারবারিরা বনের ভিতর পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করে একটি একনলা বন্দুকসহ মামুন কয়েলকে আটক করা হয়।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কৈখালী শ্যামনগর থানাধীন বয়াসিং সংলগ্ন একটি খালের পাশে পুঁতে রাখা একটি দেশি নয় এমএম পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, এবং এক রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিজেপির সহায়তায় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিশ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত গোলাবারুদ সম্পর্কে কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা জানান, যে জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে আটককৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি, তবে আর আটকৃত ব্যক্তি সম্পর্কে কোস্টগার্ড কর্মকর্তা বলেন সে মানব পাচারকারী এবং অস্ত্র মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
অন্যদিকে অপার একটি অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুন্দরবনের খাসীটানা খাল সংলগ্ন মুরুলি খাল ও ছেড়া খাল এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
এ সময় পোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বাহিনীর সদস্যরা কোস্টগার্ডের বোট লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করতে থাকে, এমন পরিস্থিতিতে কোস্টগার্ড শিক্ষার জন্য পাল্টা গুলি ছড়েন।
পরে ডাকাত দল রাতের অন্ধকারে বনের ভিতর পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় ঘটনার সূত্র ধরে খুলনার কয়রায় দুলাভাই বাহিনীর সহযোগী সুলাইমানকে আটক করা হয়।
পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার ভোর চারটায় ওই এলাকায় অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। এ সময় সেখান থেকে একটি একনালা বন্দ, ১০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৬ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ,৪৪টি চকলেট বোমা, ৩০ টি মোবাইল ফোনসহ অসংখ্য অস্ত্র উদ্ধার করে।
জানা গেছে আটক ডাকাত সদস্য দীর্ঘদিন ধরে দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র গোলাবারুদ সরবরাহ করে সহযোগিতা দিয়ে আসছিলেন বলে জানান কোচগার্ড কর্মকর্তা।