ইমরান খন্দকার
সবসময় মুখে হাসি চোখে প্রশান্তি এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়
তাদের মধ্যে একজন হলেন শরিফ স্যার
তিনি বিশ্বাস করেন হাসি শুধু নিজের নয় আশেপাশের মানুষকেও বাঁচিয়ে রাখে
পেশায় একজন সরকারি কর্মকর্তা হলেও তার হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে আছে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক
প্রতিদিন সকালে অফিসে যাওয়ার আগে তিনি সময় দেন একদল ছাত্রছাত্রীকে যারা অনেকেই আর্থিকভাবে দুর্বল কিন্তু স্বপ্নে ভরপুর
তিনি বলেন আমার দিনের শুরু হয় শিক্ষার্থীদের হাসি দিয়ে ওদের চোখে ভবিষ্যৎ দেখি
শরিফ স্যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন
চাইলে তিনি বড় শহরে বিলাসী জীবনে থাকতে পারতেন কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছেন নিজের জন্মভূমি গ্রামকে
কারণ তার একটাই লক্ষ্য গ্রামে থাকা মেধাবী ভদ্র এবং অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নিঃস্বার্থভাবে শিক্ষা দেওয়া
তিনি তাদের কাছে শুধু শিক্ষক নন বরং একজন অভিভাবক পথপ্রদর্শক এবং জীবনের অনুপ্রেরণা
তার টিউশনির অর্থ নয় ভালোবাসাই তার চালিকা শক্তি
কিন্তু এই হাস্যোজ্জ্বল প্রাণবন্ত মানুষটির জীবনে আজ নেমে এসেছে গভীর ছায়া
গত সাত মাস ধরে তার প্রিয় স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত
স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের নামী হাসপাতালগুলোতে অসংখ্য ডাক্তার দেখিয়েছেন সর্বস্ব খরচ করেছেন শুধু প্রিয় মানুষটিকে সুস্থ দেখতে চান বলে
তবুও এখনো ভাগ্য সহায় হয়নি
দীর্ঘ চিকিৎসার ক্লান্তিতে শরিফ স্যারের মুখে হাসি আজ কিছুটা ম্লান কিন্তু মনোবল এখনো অটুট
তিনি বলেন যতদিন আমার স্ত্রী লড়ছে ততদিন আমি হার মানব না
তিনি এখন সবার কাছে একটি অনুরোধ করেছেন
দোয়া করবেন যেন আমার স্ত্রী দ্রুত আরোগ্য লাভ করে আমি চাই আবার আগের মতো একসঙ্গে হাসতে পড়াতে বাঁচতে
এই গল্প কেবল একজন শরিফ স্যারের নয়
এটা এক মানবতার গল্প ত্যাগের গল্প এবং ভালোবাসার এক গভীর প্রতিচ্ছবি
আসুন আমরা সবাই মিলে এই মানুষটির পাশে দাঁড়াই
প্রার্থনা করি শরিফ স্যারের স্ত্রীর সুস্থতা ও পরিবারের শান্তির জন্য