জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 5-নভেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আসবাবপত্র ক্রয়ে জেলা মহিলা অধিদপ্তরে ব্যাপক অনিয়ম

ইব্রাহীম আলী  

পঞ্চগড় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আসবাবপত্র ক্রয় ও বিভিন্ন কর্মসূচির ব্যয় সংক্রান্ত ভাউচারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে এসব অনিয়মের তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের জন্য ৫টি চেয়ার ক্রয় করা হয় গত ১১ আগস্ট। তবে বাজারে একই মানের চেয়ার পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ৫০০ টাকায়, অথচ দপ্তরের ভাউচারে দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকা ব্যয়।

এ বিষয়ে অফিসে গিয়ে দেখা যায়, নতুন কেনা চেয়ারগুলো স্থানীয় দোকানে বিক্রিত একই মডেলের। প্রতিটি চেয়ারের বাজারমূল্য গড়ে ৪ হাজার ৯০০ থেকে ৫ হাজার টাকা। অথচ বিলভাউচারে প্রতিটি চেয়ারের দাম দেখানো হয়েছে ১০ হাজার টাকার বেশি।

এছাড়া চলতি বছরের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত “জাগরণ অনুষ্ঠান” উপলক্ষে দেওয়া নাস্তার বিলেও অনিয়ম পাওয়া গেছে। অংশগ্রহণকারীদের পরিবেশন করা হয়েছিল একটি সেদ্ধ ডিম, একটি লেক্সাস বিস্কুট ও একটি কলা। অথচ দপ্তরের বিলভাউচারে দেখানো হয়েছে ২০০ প্যাকেট বিরানির খরচ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এভাবেই উপ-পরিচালক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান এর নেতৃত্বে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পঞ্চগড় জেলা অফিস, বোদা উপজেলা, দেবীগঞ্জ উপজেলা ও পঞ্চগড় সদর অফিসে বিভিন্ন ছোট-বড় প্রকল্প ও ক্রয় সংক্রান্ত খাতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে বছরের পর বছর সরকারি অর্থ আত্মসাৎ লুটপাট করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সফলতা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি খাদিজা আক্তার বলেন, আমি সে দিন আমার সংস্থা থেকে ২০ জন মহিলা নিয়ে এসেছিলাম প্রোগ্রামে। আমি নাস্তার প্যাকেট পয়ানি। আমার সংস্থার মহিলাদের কাছ থেকে শুনেছি নাস্তার প্যাকেটে একটি কলা, একটি ডিম ও একটি কেক ছিলো। তা ছাড়া আমরা কিছু পায়নি।

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের হিসাব রক্ষক কাম ক্রেডিট সুপারভাইজার সিলভিয়া নাসরিন বলেন, জুলাই জাগরণ অনুষ্ঠানে নাস্তা হিসেবে ডিম, কলা ও কেক দেওয়া হয়েছিল। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান স্যার আমাকে যেভা বিল ভাউচার করতে বলেছেন আমি সে ভাবেই করেছি। এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। বিল-ভাউচারের বিষয়ে স্যার জানেন। আমি হচ্ছি হুকুমের গোলাম। 

এ বিষয়ে উপ-পরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে কল গেলেও রিসিভ হয়নি। 

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, “সরকারের উন্নয়নমুখী দপ্তরে এভাবে অনিয়ম চলতে থাকলে প্রকৃত উন্নয়ন ব্যাহত হবে এবং জনআস্থা হারাবে।”

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ত্যাগীও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব আশিক আহমেদ কমল

1

মাদারীপুরেে রেজিস্ট্রার অফিস থেকে প্রায় ১১ টাকা টাকা ছিনতাই

2

চর দখল নিয়ে গোলাগুলি, বাবা ছেলে সহ নিহত ৫ জনের বাড়ি হাতিয়া

3

গৌরনদীতে ভাঙারির দোকানে সরকারি পাঠ্যপুস্তক জব্দ, তদন্তের নির

4

১১ নং শিকারপুর ইউনিয়নের বিল আন্দার কোটা গ্রামের কাঁচা রাস্ত

5

গোপালপুরে মহান বিজয় দিবসে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ

6

নওগাঁর নিয়ামতপুরে নির্বাচনী জনসভায় ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন,

7

উৎসবমূখর পরিবেশে সাতক্ষীরার ৪ টি আসনে ২৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্

8

কালাইয়ে খুদে সাঁতারুদের মাঝে টি-শার্ট বিতরণ

9

৩২ স্টলের অংশগ্রহণে পাঁচবিবিতে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ২০২৫-এর

10

মিতংগ্যা মার্মা কর্তৃক পাড়াবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রত

11

চৌগাছা আসনে প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে হাই কমান্ডের কাছে লিখিত আ

12

দেশে কমলেও বিদেশে বাড়ছে বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ

13

কোটালীপাড়ায় মাছের খামারে ৫২ পরিবারে চরম দুর্ভোগ

14

মাদারীপুরে -সবজির মূল্য নিম্নমুখী হলেও, পিয়াজের ঝাঁঝ এখনও কম

15

এক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনী দৌড়ে জামায়াত এগিয়ে, বিএনপিতে মনোন

16

দরিদ্রদের মাংস গেল কার পাতে

17

নিয়ামতপুর মডেল সপ্রাবিতে বার্ষিক পরীক্ষা-২০২৫ এর ফল প্রকাশ

18

ময়মনসিংহ সদর ভিক্ষুক পুনর্বাসনে নতুন দিগন্ত

19

মনিরামপুর বাসীর সেবায় ‘আমাদের অ্যাম্বুলেন্স’ অর্ধশত ফ্রী মৃত

20