জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 24-সেপ্টেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চলনবিলে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট


আব্দুল আলিম।।

বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাভূমি চলনবিল। বর্ষা এলেই এই বিলজুড়ে সৃষ্টি হয় অশেষ জলরাশি যেখানে চারদিকে শুধু পানি আর পানি। একসময় এই পানি কৃষকের কাছে ছিল আশীর্বাদ; ধান চাষে উর্বরতা আসত, মৎস্য সম্পদ বেড়ে যেত। কিন্তু এখন বর্ষার পানি আশীর্বাদের বদলে অভিশাপে পরিণত হয়েছে।বর্ষা নামার সঙ্গে সঙ্গে চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। এতে গ্রামীণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়, বন্ধ হয়ে যায় বাজার-স্কুল-কলেজে যাতায়াত। একই সঙ্গে দেখা দেয় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট। কারণ সব খোলা মাঠ, খড়ের জমি ও প্রাকৃতিক ঘাস পানির নিচে হারিয়ে যায়।ফলে গবাদিপশুর জন্য কৃষক ও খামারিদের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে কচুরিপানা। প্রতিদিন বিলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে মানুষকে কচুরিপানা তুলতে দেখা যায়। কেউ নৌকায় ভরে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ কাঁধে বোঝা করে টেনে আনছেন। নারী-পুরুষ, শিশু সবাই ব্যস্ত একমুঠ খাদ্যের সংগ্রামে।স্থানীয় কৃষক আব্দুল হালিম জানালেন, “বর্ষায় খড় বা ঘাস পাওয়া যায় না। গরু পালতে হলে কচুরিপানা ছাড়া উপায় নেই। তবে এতে পশু মোটাতাজা হয় না, শুধু বেঁচে থাকে।”

আরেক কৃষক জুয়েল বললেন, “এক বিঘা জমি থেকে সারা বছরের জন্য খড় মজুত করা যায় না। বর্ষার সময় বাজারে খড় কিনতে গেলে দাম আকাশচুম্বী। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে কচুরিপানা খাওয়াই।”সরকারি উদ্যোগের অভাব কৃষক ও খামারিদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে এ সমস্যার সমাধানে সরকারি কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। বর্ষার সময় পশুখাদ্যের জন্য জরুরি সহায়তা না থাকায় তারা প্রতি বছর একই দুর্ভোগে পড়েন।
বিশেষজ্ঞদের মতে,পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “কচুরিপানা সাময়িকভাবে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়, কিন্তু এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি মেলে না। বরং দীর্ঘমেয়াদে পশুর স্বাস্থ্য ও দুধ-গোশতের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”
তিনি পরামর্শ দেন, কৃষকদের বিকল্প ঘাস চাষ, সাইলেজ প্রস্তুত (ঘাসের বিশেষ সংরক্ষণ পদ্ধতি) এবং ধান কাটার মৌসুমে খড় সংরক্ষণে উৎসাহিত করা দরকার। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে খামারিদের প্রশিক্ষণ ও পশুখাদ্য সরবরাহে সরকারি উদ্যোগ জরুরি।
চলনবিলের মানুষ বলছেন, প্রতিবছর বর্ষায় এভাবে কচুরিপানার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বরং পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এ সমস্যার অবসান সম্ভব।
বর্ষা মৌসুমে বিকল্প খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচি,স্থানীয়ভাবে পশুখাদ্য ব্যাংক গড়ে তোলা,
ও খড় সংরক্ষণে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।
প্রকৃতপক্ষে চলনবিলের কৃষক ও খামারিরা আজ এক অনিশ্চিত বাস্তবতার মধ্যে বেঁচে আছেন। বর্ষার পানি যেমন তাদের জনজীবন বিপর্যস্ত করছে, তেমনি গবাদিপশুর খাদ্য সংকটে ফেলছে মহাবিপাকে। কচুরিপানা হয়তো সাময়িক ভরসা দিচ্ছে, কিন্তু পুষ্টিহীন এ খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকলে গবাদিপশুর সঠিক বিকাশ ও কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সংক্ষেপে বলা যায়, বর্ষার পানিতে ডুবে যাওয়া চলনবিলের মানুষ আজ শুধু গবাদিপশু বাঁচিয়ে রাখার জন্যই কচুরিপানার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নড়াইল-লোহাগড়ার মানুষের সেবক হতে চাই

1

মান্দায় বাজার নিরাপত্তা জোরদারে প্রহরীদের মাঝে বিশেষ পোশাক ও

2

মোহাম্মদপুরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম

3

সাপাহারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপ

4

অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে স্নাতকে ভর্তির সম্পূর্ণ খরচ দিল ইবি ছাত্

5

সাংবাদিক শিশির রঞ্জনের পিতা সুনিল রঞ্জন হাওলাদারের পরলোক গমন

6

দুই দশক পর নওগাঁয় তারেক রহমান: নেতাকর্মীদের ঢল, উৎসবের আমেজ

7

ধান কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

8

আশাশুনি সদর ও কুল্যা কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ

9

সোনাগাজীতে পুলিশ ও সাংবাদিকের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে হে

10

মুকসুদপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের ১০ নেতার পদত

11

কালিগঞ্জে সামাজিক সম্প্রীতি ও দ্বন্দ্ব প্রতিরোধে কর্মশালা অন

12

জেটিঘাট ইজারাদার এর কাছে জিম্মি

13

শাহরাস্তিতে গাঁজাসহ যুবক আটক

14

আওয়ামী লীগের অপকর্মে শেখ হাসিনা ও বায়তুল মোকাররমের খতিব পালা

15

দৌলতপুরে প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের সুফলভোগীদের মাঝে হাঁস

16

মাদারীপুরের ঐতিহ্য "শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজার" প্রস্তুতি সম্পন্

17

হাদি হত্যাকাণ্ডে উত্তাল পাঁচবিবি, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

18

আওয়ামীলীগ নিজেদের কল্যানে কাজ করেছে : ড. মঈন খান

19

ইসলামীয়া প্রিপারেটরী স্কুলের উদ্যোগে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠি

20