মোঃ জীবন
২৫শে ডিসেম্বর, ২০২৫
‘বেথলেহেমের সেই শুকতারাটি আজ আবার উদিত হয়েছে বাংলার ঘরে ঘরে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে মানুষে-মানুষে মৈত্রীর বন্ধন সুদৃঢ় করার আহ্বান নিয়ে সারা দেশে আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হচ্ছে খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বড়দিন’ বা ‘ক্রিসমাস’।’
১. শুভ বড়দিনে উৎসবের আমেজ ও ধর্মীয় মর্যাদা:- আজকের এই পুণ্যলগ্নে দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে ফিলিস্তিনের বেথলেহেমের এক গোয়ালঘরে জন্ম নিয়েছিলেন যিশু খ্রিস্ট। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি ছিলেন সৃষ্টিকর্তার মহিমা ও শান্তির প্রতীক। আজ সকাল থেকেই রাজধানীর কাকরাইলের সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল, তেজগাঁওয়ের জপমালা রানীর গির্জা এবং মিরপুরের গির্জাগুলোতে বিশেষ প্রার্থনা বা ‘খ্রিস্টযাগ’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গির্জাগুলো সাজানো হয়েছে রঙ্গিন আলোকসজ্জা, ক্রিসমাস ট্রি আর মনোরম ফুল দিয়ে।
২. সমসাময়িক প্রেক্ষাপট্ ও শান্তির আহ্বান:- বর্তমান বিশ্বের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে্ এবারের বড়দিনের মূল প্রতিপাদ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘বিশ্বশান্তি ও মানবিক ঐক্য’। প্রার্থনা সভায় ফাদার ও যাজকগণ ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বের যুদ্ধপীড়িত শিশুদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন। যিশুর সেই কালজয়ী শিক্ষা- "পরকে আপন করে নাও" এবং "শত্রুকে ভালোবাসো"- এই দর্শনের মাধ্যমেই বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা দূর করা সম্ভব বলে খুতবায় উল্লেখ করা হয়।
৩. বৈচিত্র্যময় উদযাপন ও উৎসবের রং:- বড়দিন মানেই এখন আর শুধু একটি ধর্মের উৎসব নয়, এটি বাঙ্গালির চিরন্তন অসাম্প্রদায়িক চেতনার অংশ।
* ক্রিসমাস ট্রি ও সান্তা ক্লজ:- রঙ্গিন বাতি ও তারার সজ্জায় মোড়ানো ক্রিসমাস ট্রির নিচে ছোটদের জন্য জমা হচ্ছে উপহার। লাল পোশাকে সাদা দাড়ির ‘সান্তা ক্লজ’ শিশুদের মাঝে চকলেট ও খেলনা বিলিয়ে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন।
* নগরীর সাজসজ্জা:- ঢাকার বড় বড় হোটেলগুলোতে (যেমন: প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, ইন্টারকন্টিনেন্টাল) তৈরি করা হয়েছে বিশাল সব ‘জিঞ্জারব্রেড হাউস’ এবং কৃত্রিম বরফে ঢাকা ক্রিসমাস জোন।
* ঘরে ঘরে পিঠাপুলির উৎসব:- বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিতে মিশে গিয়ে বড়দিনের উৎসব পূর্ণতা পেয়েছে কেক, পিঠা এবং বিশেষ ভোজে।
৪. বড়দিন উপলক্ষে নিরাপত্তা ও সরকারি প্রস্তুতি:- বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজধানীসহ সারা দেশের গির্জাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মেটাল ডিটেক্টর এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কড়া নজরদারিতে রয়েছে উৎসবস্থলগুলো।
৫. সম্প্রীতির বার্তায় শুভ বড়দিন:- বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আজকের এই দিনে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান- সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, উৎসব সবার। যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করার শপথ গ্রহণের মাধ্যমেই বড়দিনের সার্থকতা প্রতিফলিত হবে।
সর্বপরি বলা বাহুল্য যে, আলোকিত এই দিনে পৃথিবী থেকে মুছে যাক অন্ধকার, জয় হোক মানবতার। সকল শ্রেণীর পাঠকের জন্য রইল- শুভ বড়দিনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দিত অভিনন্দন!
মন্তব্য করুন