ত্রিশাল থানা সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে মো. রুবেল ওরফে সুমন (৩২)-এর সঙ্গে তার চাচা ও চাচাতো ভাইদের দীর্ঘদিন ধরে পুকুর ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তরা হলেন—শাহাব উদ্দিন খান (৪৮), তার স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন (৪৫), কন্যা ফারজানা আক্তার (২০), শাহ আলম ওরফে পল্লব (২৯), লিংকন (২৬), সাদ্দাম হোসেন (৩২) ও আকরাম হোসেন (২৯)।
ভুক্তভোগী মো. রুবেল ওরফে সুমন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ মালিকানাধীন পুকুরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তার চাচা ও চাচাতো ভাই পূর্ব শত্রুতার জেরে পুকুরটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে বেড় জাল নামিয়ে মাছ ধরতে শুরু করে। এতে বাধা দিতে গেলে তারা তাকে ও তার বড় বোনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় তার এক হাতের কনুইয়ের নিচে গুরুতর জখম হয় এবং তার বড় বোনের মাথায় আঘাত লাগে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর অভিযুক্তরা তার ঘরে ঢুকে সুকেসের ড্রয়ার থেকে নগদ ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ও একটি অপো মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
আরেক ভুক্তভোগী মো. ওবায়দুল হক জানান, মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার স্ত্রী রিপা আক্তারের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় তার স্ত্রীর গলা থেকে আট আনা ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৪ হাজার টাকা।
স্থানীয় এলাকাবাসী সায়েম ও জনি জানান, সংঘর্ষের একপর্যায়ে হামলাকারীরা রুবেলের পুকুরের মাছ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন