মোঃ কবির উদ্দিন
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট–ধোবাউড়া) আসনের ঘোষগাঁও ইউনিয়নের এরশাদ বাজার এলাকায় সংঘটিত সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপি।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক জি এম আজহারুল ইসলাম কাজল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স কিংবা বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীর সামান্যতম সম্পৃক্ততাও নেই। এটি একটি ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত ঘটনা, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তেই প্রমাণিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ধোবাউড়া উপজেলার রামসিংহপুর গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন শেষে তার এক সমর্থক নজরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে নজরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা গণহিংসা ঘটেনি বলেও দাবি করা হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটিকে ‘নির্বাচনী সহিংসতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে স্লোগান ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মানহানি এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
এ সময় বিএনপি প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে।
সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা,
প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া,
ধানের শীষের প্রার্থীসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্র ও সহিংস উসকানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং
মামলায় তালিকাভুক্ত নিরপরাধ নেতাকর্মীদের অব্যাহতি প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে অধ্যাপক জি এম আজহারুল ইসলাম কাজল বলেন, “বিএনপি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিশ্বাস করে। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না।