বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার, অভিযানে সারিয়াকান্দি পৌরসভার সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে সাংবাদিক ও ডিবি পরিচয়ে অপহরণ পূর্বক মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় জড়িত ৩ জন আসামী গ্রেফতার ও মুক্তিপণ বাবদ আদায়কৃত সর্বমোট (এক লক্ষ ষোল হাজার) টাকা উদ্ধার।
গত সোমবার দুপুরে সারিয়াকান্দী পৌরসভার সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব (৫৬), পিতা মৃত আজিজুল হক কালু, এ/পি-মধুবন সিনেমা হলের পশ্চিম পার্শ্বে, ভাই-ভাই গ্যারেজ (মালিক রঞ্জু) এর বাসা, স্থায়ী-গণকপাড়া, সারিয়াকান্দী। প্রতিদিনের ন্যায় সাইড পরিদর্শন করে আসার সময় ঘটনাস্থল সারিয়াকান্দী উপজেলা কুঠিবাড়ি এলাকা থেকে ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সাংবাদিক ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে আটক করে নিয়ে মুক্তিপণ বাবদ (পাঁচ লক্ষ) টাকা দাবি করে । পরে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের নিকট থেকে তার মুক্তিপণ বাবদ (দুই লক্ষ দশ হাজার) টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। ভিকটিম ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী বাদী হয়ে সারিয়াকান্দী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, মামলা নং-১০, তারিখ-১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ধারা-341/170/365/385/386/34 The Penal Code, 1860; রুজু হয়।
উক্ত মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা, বগুড়া’য় হস্তান্তর করা হয়। মামলাটি তদন্তকালে ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজে পর্যালোচনায় অত্র অপহরণের ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত অপরহণকারী আসামী সঞ্জয়কে সনাক্ত করা হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখা, অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহারের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক মোঃ রাকিব হোসেনসহ একটি চৌকশ টিম গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তি সহয়ায়তায় গত মঙ্গলবার বগুড়া সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া উক্ত অপহরণের সাথে সরাসরি জড়িত আসামী মোঃ সঞ্জয় সরকার (৩০), পিতা মৃত: লাল মিয়া, শহরের ফুলবাড়ী দক্ষিনপাড়া, মোঃ শাহিন হোসেন (৩৪), পিতা মোঃ আনোয়ার হোসেন, বৃন্দাবন পশ্চিম পাড়া। মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৪২), পিতা মোঃ ডাবলু মিয়া, ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া, সকলের থানা জেলা বগুড়া। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সঞ্জয় সরকারের দেওয়া তথ্য মতে তার ভাড়াকৃত বসত বাড়ী থেকে অপহরণ পূর্বক মুক্তিপণ আদায়ের (বিরাশি হাজার) টাকা ও আসামী মোঃ শাহিন হোসেনের হেফাজত থেকে অপহরণ পূর্বক মুক্তিপণ আদায়ের (চৌত্রিশ হাজার) টাকা সর্বমোট (এক লক্ষ ষোল হাজার) উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।
প্রকাশ থাকে যে, অপহরণ পূর্বক মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনার সাথে জড়িত ও পলাতক অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা ও মুক্তিপণ বাবদ আদায়কৃত টাকা উদ্ধার অভিযান চলমান আছে।