জাহাঙ্গীর আলম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় কোনো ধরনের বৈধ চিকিৎসা সনদ ছাড়াই নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগী দেখানোর অভিযোগে এক ফার্মেসি মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আখাউড়া উপজেলার তন্তর বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী। অভিযানে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন।
অভিযানকালে দেখা যায়, তন্তর বাজারে অবস্থিত নয়ন ফার্মেসির মালিক কোনো ধরনের চিকিৎসা সনদ বা অনুমোদন ছাড়াই চেম্বারের আদলে বসে রোগী দেখছিলেন। তিনি রোগীদের কাছ থেকে ভিজিট ফি আদায় করছিলেন এবং নিজ হাতে প্রেসক্রিপশন লিখে দিচ্ছিলেন। এ সময় এন্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশনাও দিতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তির এমবিবিএস, পল্লী চিকিৎসক বা চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট কোনো বৈধ সনদ নেই। অথচ তিনি প্রেসক্রিপশনে নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করছিলেন।
এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে পুনরায় এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ভুয়া চিকিৎসা কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা ভুয়া চিকিৎসা ও অবৈধ ফার্মেসি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।