মনির আহমদ আজাদ
লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের আমিরাবাদ জনকল্যাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গঠিত অডিট কমিটির তদন্তে অর্থ নয়ছয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গত এক বছরে ব্যাংকবহির্ভূত লেনদেন, ভুয়া হিসাব উপস্থাপন এবং নানা খাতে মিথ্যা তথ্য দেখিয়ে বিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অডিট কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলিত ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার কোনো গ্রহণযোগ্য হিসাব উপস্থাপন করতে পারেননি প্রধান শিক্ষক।
এছাড়া বিদ্যালয়ের দাতা সদস্যদের দেওয়া ৪ লাখ টাকা হিসাব বইয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। বিদ্যালয়ে যোগদান না করা শিক্ষকের বেতন দেখিয়ে ৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন খাতে মোট প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীনের সহায়তায় বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন শায়লা খানম। তিনি চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করতেন এবং বিদ্যালয়ে অনিয়মিত যাতায়াতের সুযোগে প্রধান শিক্ষক খেয়ালখুশিমতো বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় ও হিসাব জালিয়াতি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও অডিট কমিটির সদস্য নুরুল আবছার বলেন, তিন সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটি তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের অর্থ আত্মসাতের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। আমাদের প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. সলিমুল্লাহ। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। অডিট কমিটিও সঠিকভাবে গঠিত হয়নি। একজন সদস্যের বিরুদ্ধে আমি অভিযোগ দিয়েছিলাম, তাকেই রেখে অডিট করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শায়লা খানম বলেন, আমার দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের কোনো অনিয়ম ঘটেনি। আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ের সকল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছি।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করবে।
মন্তব্য করুন