গাজী মাহমুদ পারভেজ ।।
কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবায় ইউনিয়নবাসীর অপার স্বস্তি জোগানো উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এরই মধ্যে হয়ে উঠেছে উপজেলার অন্যতম অনুকরণীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। জয় করেছে হোসেন্দী ও টেংগারচর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মন।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবায় এনে দিয়েছে অভাবনীয় পরিবর্তনের ছোঁয়া। সকলের প্রিয় উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলামের গতিশীল নেতৃত্ব ও অসামান্য কর্মদক্ষতায় নিশ্চিত করেছে ইউনিয়নবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। তাঁর সঙ্গে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন একজন অফিস সহায়ক। নিরলস ও আন্তরিক সেবার সুবাতাস বয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী এলাকায়ও। ফলে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিড় করছেন এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।
দীর্ঘ সময় ধরে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মানবসেবায় নিয়োজিত কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মো: শহিদুল ইসলাম তুলে ধরে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিভিন্ন দিক। ২০১১ সালের শেষের দিকে হোসেন্দী ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগদান করে মো: শহিদুল ইসলাম। এই দীর্ঘ সময়ের পথচলায় হোসেন্দী ইউনিয়নের প্রতিটি পার মহল্লার সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জড়িয়ে আছেন শহিদ ডাক্তার।
প্রায় একশ’ বছর পূর্বে এটি চালু হয়েছিল। এটি তখন ছিল এ জেড চ্যারিটেবল ডিসপেনচারী নামে।যুবদল নেতা আসলামুজ্জোহা চৌধুরী তপন সাহেব এর বাবা-- সাহেববাড়ির সুযোগ্য সন্তান প্রয়াত আক্রামুজ্জোহা চৌধুরী সাহেব এটি পরিচালনা করতেন। ১৯৮০ সালের দিকে এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। তখন থেকেই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামকরণ করা হয় হোসেন্দী ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এ কেন্দ্রটি স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন রকম সমাজসেবামূলক ভূমিকা রেখে চলেছে গরিবের ডাক্তার শহিদ ডাক্তার।
এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গরিবের ডাক্তার মো: শহিদুল ইসলাম যোগদানের পর স্বাস্থ্য সেবার ছোট্ট এই ইউনিটে যে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সিরিয়াল মেইনটেইন করে আন্তরিকতার সাথে রোগীকে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা প্রদান। যে রোগীকে যতটুকু সময় দেওয়া প্রয়োজন, তা পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। এখানে তাড়াহুড়ো পরিহার করে যেভাবে সময় নিয়ে রোগী দেখা প্রয়োজন, সেভাবে হচ্ছে। যথাযথ নিয়ম মেনেই কাজগুলো হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিপ্লোমা ডাক্তার মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠুর সার্বিক সহযোগিতায় ২৪--২৫ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয় এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে নিজ দায়িত্বে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দেয়ালগুলো আগে ভাঙা ছিল, সেগুলোর সংস্কার ও রঙ করা হয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য টিনের চালায় সিলিং করা, ফ্লোরে টাইলস এবং পরিবেশ সৌন্দর্য রক্ষার্থে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ফটকে করা হয় ফুলের বাগান। সেই সাথে এই সীমিত টাকার মধ্যে ফ্যান ও চেয়ার ব্যাবস্থা করা হয়। এর আগে এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এতটাই বেহাল অবস্থা ছিল সামান্য একটু বৃষ্টি আসলেই বারান্দা সহ মেঝেতে বৃষ্টির পানি এবং চারপাশে ময়লা-আবর্জনার গন্ধ ভিতরে প্রবেশ করতো।
আরেক প্রশ্নের জবাবে মো: শহিদুল ইসলাম, জানান, প্রতিদিন প্রায় একশত এর অধিক রোগী দেখে থাকি। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে কাগজে-কলমে পাঁচ জন স্টাফ থাকলেও সেখানে দায়িত্বরত আছি মাত্র দুইজন, একজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার এবং অফিস সহায়ক যার মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে একমাত্র উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন, একজন ফার্মাসিস্ট তার কাজ হচ্ছে ঔষদ বিতরণ এবং ঔষধের ডোজ বুজিয়ে দেওয়া। একজন মিড-ওয়াইফ তার কাজ হচ্ছে এখানে যে মহিলা রোগী গুলা আসে বিশেষ করে মা ও গর্ব বতী মায়েদের চিকিৎসা প্রদান করা। স্টাফ না-থাকায় সকল কাজ করতে হয় তাকেই।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবন নিয়ে কথা আসলে উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম জানায়, এখানে জায়গা নিয়ে যে সমস্যা ছিলো, এখন আর নেই। হোসেন্দী ইউনিয়নবাসীর কথা চিন্তা করে মরহুম আক্রামুজ্জোহা চৌধুরী এই জায়গায় দান করে গেছেন। এই জায়গায় টি দাতব্য চিকিৎসালয়ের নামে রয়েছে। মরহুম আক্রামুজ্জোহা চৌধুরী সাহেব এর সেজ ছেলে আসলামুজ্জুহা চৌধুরী (তপন) বলেন হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজনে একটু জায়গা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। তাও এখানে যেন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়।