শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে রোববার বিকেলে মহিউদ্দিনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই খবরে তার নির্বাচনী এলাকা জুড়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও অভিনন্দনের বার্তা।
উল্লেখ্য, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মহিউদ্দিন মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিধি অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোট ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও যাচাই-বাছাইয়ের সময় তথ্যে গরমিলের অভিযোগ তুলে গত ২ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন।
জানা যায়, দৈবচয়ন (লটারি) পদ্ধতিতে নির্বাচিত ১০টি সিরিয়ালের মধ্যে ২৯৪ নম্বর সিরিয়ালটি যাচাইয়ের জন্য নির্ধারিত হয়। কিন্তু সরবরাহকৃত তালিকায় ওই সিরিয়াল নম্বরটি ফাঁকা থাকায় মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে মহিউদ্দিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন এবং শুনানি শেষে কমিশন তার পক্ষে রায় দেন।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় মহিউদ্দিন বলেন,
“আমি জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব। এই রায় প্রমাণ করেছে—সত্য ও ন্যায়ের পথ কখনো রুদ্ধ হয় না।”
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, মহিউদ্দিনের নির্বাচনী মাঠে ফিরে আসার ফলে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আলোচিত হয়ে উঠবে।
প্রসঙ্গত, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ৪৬৭ জন। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫। মনোনয়ন বাছাই সম্পন্ন হয় ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি একই দিনে দেশব্যাপী সংবিধান সংস্কার বিষয়ে একটি বিশেষ গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।