গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঋণের চাপে জর্জরিত হয়ে সুশান্ত কুমার ওরফে দিনার (৩৫) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কর্মস্থলে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত সুশান্ত কুমার দিনার উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের বামনকুড়ি (কৈপাড়া) গ্রামের মৃত ধীরেন নাথ মাস্টারের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোবিন্দগঞ্জ পৌরশহরের ঝিলপাড়া এলাকায় অবস্থিত এআই নেটওয়ার্ক নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কর্মস্থলেই তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি সহকর্মীদের নজরে আসলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা. ফাহাদ আল আসাদ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার খাতার তথ্যের বরাত দিয়ে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সুশান্তের মৃত্যু ঘটে।
খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ রাত ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার পিএসআই মাহাবুব জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে নিহত সুশান্ত বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণগ্রস্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দেনাদারদের চাপ ও মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যেই তিনি দিন কাটাচ্ছিলেন। এসব কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন বলে পুলিশ ধারণা করছে।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সুশান্ত কুমার দিনার ছিলেন শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী যুবক। হঠাৎ করে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি এলাকাবাসীও গভীরভাবে শোকাহত। অনেকেই ঋণের চাপ ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে এই ঘটনা আবারও সমাজে ঋণের দায়ে মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার মতো দুঃখজনক প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহলে। স্থানীয়রা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সহায়তা ও সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন