জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 23-ডিসেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নাসির নগরে শ্রম বিক্রির হাট

খ,ম,জায়েদ হোসেন

সবে ভোরের আলো উঁকি দিয়েছে।বেশির ভাগ মানুষ তখনও গভীর ঘুমে আছন্ন। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার হাওর বেষ্টিত নাসির নগর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লোকজনের কোলাহলে সরগরম হয়ে উঠেছে। হঠাৎ দেখলে মনে হয় সেখানে হাট বসেছে,তবে এই হাট কোন পণ্যের নয়,এই হাট মানুষের শ্রম বিক্রির হাট।

এখানে পণ্যের মত বিক্রি হয় শ্রম। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নিম্ন আয়ের মানুষ এ হাটে আসেন শ্রম বিক্রির জন্য। তাদের শ্রম বিক্রি হয় দিনের চুক্তিতে ।

প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টায় উপজেলা সদরে  বাজারসহ অন্তত কয়েকটি  স্থানে ‘মানুষের হাট’ বসে।

উপজেলা সদর বাজার ও স্থানীয় কলেজ মোড়  এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এলাকা জুড়ে বসেছে ‘মানুষের হাট’। শ্রমিকরা কাজের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করছেন। খদ্দের এলে শ্রমিকরা জড়ো হন। আবার অনেক শ্রমিক ‘কাজ নেবেন’ বলেও ডাকতে থাকেন।

শ্রম বিক্রি করতে আসা বেশিরভাগের বাড়ি উপজেলার আশ পাশের গ্রাম অঞ্চলের। তাদের অধিকাংশই কৃষি শ্রমিক, রাজমিস্ত্রী ও গৃহস্থালির কাজ করেন।

ধান রোপণ ও কাটার সময় শ্রমিক শ্রম বিক্রির জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। শ্রমিক আলম মিয়া জানান,এ সময়ে অন্য কোন কাজ না থাকায় ইরি- বোরো ধান রোপণ ও আগাছা পরিষ্কার কাজে ব্যস্ত থাকি।

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ শ্রমিক রাজমিস্ত্রির কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “দৈনিক ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হন নির্মাণ ও কৃষি শ্রমিকরা। আর দৈনিক ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা চুক্তিতে বিক্রি হন গৃহস্থালির শ্রমিকরা। মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতেও অনেকে কাজ করেন। কাজ হিসেবে চুক্তিভিত্তিক বেতন নেন কিছু শ্রমিক।

শ্রমিক রমিজ মিয়া বলেন,

“আমার পরিবারের সদস্য সাতজন,এলাকায় যে কাজ আছে তা দিয়ে সংসার চলে না। তাই এখানে এসেছি। যদিও প্রতিদিন কাজ পাই না; সপ্তাহে ২/১ দিন খালি হাতে ফিরতে হয়।”

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোরে হাটে এসেও সকাল ৯টার মধ্যে যারা শ্রম বিক্রি করতে পারেন না, তাদেরই ফিরতে হয় ‘শূন্য হাতে’। শ্রমিকদের কেউ কেউ আসেন দুই-এক মাসের জন্য। থাকার সুবিধা কিংবা ভালো কোনো কাজ পেলে থেকে যান বছরের পর বছর। আবার টানা কয়েকদিন কাজ না পেলে অনেকে এক হাট থেকে অন্য হাটে জায়গা বদল করেন।

শ্রমিকরা হাটে আসার জন্য দলে দলে ছোটেন ছেঁড়া লুঙ্গি, শার্ট, টি-শার্ট ও পুরোনো প্যান্ট পরে; গলা ও কোমরে গামছা বাঁধা থাকে। পোশাক যেমনই হোক তাতে কারও ভ্রুক্ষেপ নেই। সন্তান ও পরিবারের লোকজন নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই কাজ। আর এ কাজ পেতেই ঘুম চোখ নিয়ে চলে তাদের লড়াই।

শ্রমিক নিতে আসা উপজেলার কুলিকুন্ডা গ্রামের কৃষক মতিন মিয়া তিনি বলেন, “শ্রমিক দরকার তাই ভোরেই চলে এসেছি। স্থানীয় শ্রমিকদের থেকে অপেক্ষাকৃত কম মজুরিতে এখানে লোক পাওয়া যায়; তারা কাজেও বেশ আন্তরিক। তাই বেশিরভাগ মানুষই এখানে শ্রমিক নিতে আসেন।”

এই হাট শুধু শ্রমের আদান- প্রদানই নয় বরং গ্রামীণ অর্থনীতির এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।এখানে দেখে মেলে জীবনের বাস্তবতা, কঠোর পরিশ্রমের গল্প আর খেটে খাওয়া মানুষের নিরব বিপ্লবের অবতরণ।  

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাত বিষয়ে ফেল, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিলো বিএনপি নেতার

1

আমীরে জামায়াতের জনসভা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতের সাংব

2

লাল-সবুজের পতাকায় বিদায় নিলেন বেগম খালেদা জিয়া

3

রাজশাহীতে পিপি, নারী আইনজীবী ও সুশীল সমাজের সাথে আলোচনা সভা

4

নাসির নগরে জুলাই যোদ্ধা শহীদ ইমরানের পিতা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

5

শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয় লেখক: মীর মোঃ রাকিব হাসান

6

ধানের শীষের বিজয় মানেই জনগণের মুক্তি হাবিবুর ইসলাম হাবিব

7

মাদারীপুরের-মস্তফাপুরে,৪০ প্রহর ব্যাপি নাম যজ্ঞানুষ্ঠান শুরু

8

বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় যোগীপোলে দোয়া মাহফি

9

ভাসানচর প্রশ্নে ছাড় দেবেনা হাতিয়াবাসী

10

গোবিন্দগঞ্জে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

11

নবান্ন উৎসব উপলক্ষে কালাইয়ে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

12

বসুন্দিয়ায় লিটিল এ্যাঞ্জেল ইনস্টিটিউট এর বিদায়ী শিক্ষার্থ

13

শিক্ষা নামে চলেছে ব্যাবসা

14

ইসলামী আন্দোলন পটুয়াখালী-০১ প্রার্থী সরে পটুয়াখালী-০৪ আসনে ন

15

দিনাজপুর ফল আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অভিষেক অনু

16

ফুলবাড়িয়ার উন্নয়ন ও মানুষের জীবন মান উন্নয়ন করতে আমি কাজ

17

মনোহরদীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত

18

ইকবালকে বিএনপি’র মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে ২২ কিলোমিটার মানববন্ধ

19

শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো আধুনিক ইনডোর ফুটসাল স্টেডিয়ামের উদ

20