মোঃ শাহিনূর ইসলাম
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আবু বক্কর (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রাংটিয়া এলাকার ঝিনাইগাতী–গজনী সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু বক্কর রাংটিয়া এলাকার মৃত আবু তাহেরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় , সকালের দিকে ঝিনাইগাতী–গজনী সড়ক দিয়ে দুটি মোটরসাইকেল বিপরীত দিক থেকে আসছিল। রাংটিয়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল দুটির মধ্যে প্রচণ্ড গতিতে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের শব্দ এতোটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাট থেকে লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়রা দেখতে পান, দুটি মোটরসাইকেলই দুমড়েমুচড়ে গেছে এবং রাস্তায় চারজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। গ্রামবাসী দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক আবু বক্কর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় আহত অন্য তিনজন হলেন— কবিতা খাতুন (১৫), সিনহা খাতুন (১০) ও শিফাত (২০)। তারা সবাই একই মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন বলে জানা গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক মোটরসাইকেলের চালক আবু বক্কর প্রাণ হারালেও অন্য মোটরসাইকেলের চালক সিজন (২১) দুর্ঘটনার পর পরই কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। সিজনের বাড়ি স্থানীয় এলাকায় হলেও ঘটনার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
খবর পেয়ে ঝিনাইগাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিউল্লাহ ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন এবং নিহত ও আহতদের পরিবারের খোঁজখবর নেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘাতক মোটরসাইকেল ও এর চালককে শনাক্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, ঝিনাইগাতী–গজনী সড়কে প্রায়ই এমন দ্রুতগতির মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পর্যটন এলাকা হওয়ার কারণে এই সড়কে পর্যটক ও স্থানীয় যুবকরা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালায়, যার ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। তারা সড়কে গতিরোধক স্থাপন এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
আজকের এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পুরো রাংটিয়া এলাকায় শোকাতুর পরিবেশ তৈরি করেছে। আবু বক্করের পরিবারে চলছে শোকের ছায়া ।
মন্তব্য করুন