মোঃ আমিনুল ইসলামমহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পিরোজপুর-২ আসনের নেছারাবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির বিজয় র্যালিকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন।
মঙ্গলবার বিকেলে নেছারাবাদ উপজেলা সদরের দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী অভিযোগ করেন, পিরোজপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপি মহান বিজয় দিবসে কোনো র্যালি করেনি, অথচ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী নির্দেশ অমান্য করে বিজয় র্যালি করেছেন, যা স্পষ্টভাবে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, "আমরা বিজয় দিবসে র্যালি করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও জেলা প্রশাসক আমাদের তা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি জামায়াত প্রার্থীকেও জানানো হয়েছিল। আমরা প্রশাসনের নির্দেশ মেনে রেলি করিনি। অথচ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী শামীম বিন সাঈদী দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নেছারাবাদে বিশাল বিজয় র্যালি করেছেন।"
জামায়াতে ইসলামি নেছারাবাদ উপজেলা শাখার আয়োজনে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দলীয় কার্যালয় থেকে বিজয় র্যালিটি বের করা হয়।
বিএনপি প্রার্থী আরও বলেন, "এই ঘটনার দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করতেই থাকবে। এতে নির্বাচনে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট হবে।" তিনি **জামায়াত প্রার্থীকে দ্রুত লিখিত শোকজ নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত বলেন, "জেলা প্রশাসক আমাদের র্যালি করতে নিষেধ করেছিলেন, তাই আমরা করিনি। অথচ একই দিনে জামায়াত র্যালি করেছে। এটি স্পষ্ট নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন। দ্রুত নোটিশ না দিলে তারা ভবিষ্যতেও এমন কর্মকাণ্ড করবে।"
অভিযোগের বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা জামায়াতের সম্পাদক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, "আমরা কোনো মিছিল করিনি, শুধু বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় র্যালি করেছি। সারাদেশেই আমাদের কর্মসূচি ছিল। এ বিষয়ে আমাদের ওপর কোনো পূর্ব নিষেধাজ্ঞা ছিল না।"
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, "জামায়াতে ইসলামি বিজয় র্যালির জন্য আমার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসক রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর কাছ থেকেও অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই।"
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য স্থানীয় ইউএনওর সঙ্গে কথা বলুন। তিনিই বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।"
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেন, সাবেক আহ্বায়ক মো: শফিকুল ইসলাম ফরিদ, নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো: নাসির উদ্দীন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো: মইনুল হাসান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো: ওহিদুজ্জামান মানিক প্রমুখ।
মন্তব্য করুন