২০২৫ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জনাব আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী এক গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি আসন্ন নির্বাচনে তার প্রার্থিতার পক্ষে এলাকাবাসীর কাছে সমর্থন ও ভোট প্রার্থনা করেন।
গণসংযোগে আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের আমির জনাব মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জনাব আশরাফুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি জনাব শামসুল হুদা এবং উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি জনাব মিসবাহ রহমান। এছাড়াও, মুরাদপুর ইউনিয়নের আমির জনাব শহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি জনাব মোরশেদ আলম, সাবেক আমির জনাব জাহাঙ্গীর আলম এবং ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি জনাব মনজুরুল আলমসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গণসংযোগে আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী তার বক্তব্যে নিজেকে এলাকাবাসীর সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদের মাঝেই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। আপনাদের দুঃখ-দুর্দশা আমি বুঝি। যদি আপনারা আমাকে সুযোগ দেন, আমি আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই, নেতা হিসেবে নয়।” তার এই আন্তরিক বক্তব্য উপস্থিত সবার মন জয় করে।
ভবিষ্যৎ সীতাকুণ্ডের রূপরেখা: উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
গণসংযোগ চলাকালে আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী ভবিষ্যৎ সীতাকুণ্ডের জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, তার মধ্যে রয়েছে:
* শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়ন: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষার অভাবে ঝরে না পড়ে। একই সাথে, শিক্ষিত বেকারদের জন্য ভোকেশনাল ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলেন।
* স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি: উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মান বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের জন্য সুলভ মূল্যে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। কমিউনিটি ক্লিনিক ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা বৃদ্ধির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
* কর্মসংস্থান সৃষ্টি: স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে তাদের জীবিকার জন্য সীতাকুণ্ড ছেড়ে যেতে না হয়। তিনি বলেন, সীতাকুণ্ড ও আকবরশাহর শিল্প-কারখানাগুলোতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি নিশ্চিত করা হবে।
* অবকাঠামোগত উন্নয়ন: রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটানোর অঙ্গীকার করেন। বিশেষ করে, সৈয়দপুর থেকে সলিমপুর পর্যন্ত বেড়িবাঁধকে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করার কথা বলেন।
* সামাজিক নিরাপত্তা: তরুণদেরকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা এবং সামাজিক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি একটি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়াও, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য পৃথক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের কথাও জানান।
* পর্যটন ও কৃষি খাতের প্রসার: সীতাকুণ্ডের পর্যটন স্থানগুলোকে নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব করে তোলার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগারের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, “সীতাকুণ্ডের জনগণের ভালোবাসা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের ভালোবাসা এবং সমর্থন থাকলে আমরা একসঙ্গে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব।”
গণসংযোগ শেষে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রতিশ্রুতি দেন যে, তারা ঘরে ঘরে গিয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইবেন এবং বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গণসংযোগ কর্মসূচি আসন্ন নির্বাচনে আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
মন্তব্য করুন