মোঃ শরিফুল ইসলাম।।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
কাজিপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ -১ ( কাজিপুর + আংশিক সদর) আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জননেতা জনাব সেলিম রেজা দৈনিক জনতার খবর এর মুখোমুখি
জনতার খবরঃ আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন আপনি?
সেলিম রেজাঃ ওলাইকুম আসসালামু, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন?? ধন্যবাদ দৈনিক জনতার খবরকে।
জনতার খবরঃ ধন্যবাদ, আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। প্রথমেই আমরা আপনার কাছে আপনার পরিচয় ও বেড়ে নিয়ে জানতে চায়?
সেলিম রেজাঃ ধন্যবাদ, আমি প্রথমেই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সহ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বীরশহীদের প্রতি এবং ২৪ শে জুলাই গনঅভ্যুত্থানে সকল শহীদের ,সেই সাথে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সুস্থতা ও সুদীর্ঘ হায়াত কামনা করে এবং জুলাই গনঅভ্যুত্থানে সকল আহতদের সুস্থতা কামনা করে শুরু করছি।
আমি সেলিম রেজা, পিতা মরহুম আফজাল হোসেন সরকার (চেয়ারম্যান) ।আমার পিতা মরহুম আফজাল হোসেন সরকার কাজিপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, সিরাজগঞ্জ মহকুমা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সহসভাপতি ও চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান।যিনি আমৃত্যু বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। আমার বেড়ে উঠা কাজিপুরের চালিতাডাঙ্গা আমার নিজ গ্রামে।
জনতার খবরঃ তাহলে তো আপনি রাজনৈতিক পরিবারেরই বেড়ে উঠেছেন। আমরা আপনার লেখাপড়া ও রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে জানতে চায়??
সেলিম রেজাঃ আমার বাবা চেয়ারম্যান হওয়া ছোট বেলা থেকেই তৃনমূল পর্যায়ের মানুষের সাথে মেলামেশার অভ্যাস ছিল। ছোট বেলা থেকে মানুষের দুঃখ কষ্টগুলো অনুভব করতাম। তখন থেকেই নিয়ত ছিল মানুষের জন্য কিছু করার। আমি ম্যাধমিক শেষ করেছি নিজগ্রামের স্কুল থেকে এর পর উচ্চ মাধ্যমিক সিরাজগঞ্জ বিএ কলেজ থেকে।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ.কম (সম্মান) এবং এম.কম পাশ করি। যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশ গঠনে ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু করলেন তখন আমি ১৯ দফায় অনুপ্রাণিত হলাম,দেখলাম ১৯ দফায় তৃনমুল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলেছেন, তখনই আমি বিএনপির রাজনীতি সম্পৃক্ত হলাম।এরপর ১৯৭৯ সালে সিরাজগঞ্জ বিএ কলেজে পড়া অবস্থায় সিরাজগঞ্জ বিএ কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য হলাম। এরপর ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সদস্য,১৯৮৯-১৯৯১ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাবিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করি। ১৯৯২ সালে থেকে ২০০২ পযর্ন্ত কাজিপুর উপজেলা বি এন পি'র সদস্য হিসাবে,এরপর ২০০২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কাজিপুর উপজেলা বিএন পি'র সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করলাম। ২০০৯-২০১০ সাল পযর্ন্ত কাজিপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।কাজিপুর বি এন পি'র সর্বজন শ্রদ্ধাভাজন প্রবীণ নেতৃবৃন্দদের মৃত্যুর পর দলের হাল ধরলাম । ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভয়ংকর সময়ে জীবন বাজি রেখে কাজিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির পাশাপাশি ২০১১-২০১৭ সাল পযর্ন্ত সিরাজগন্জ জেলা বিএনপির গণ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের আহবায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক পরে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করি। ২০২৩-২০২৪ ইং সালের আহবায়ক কমিটিতে হন সদস্য সচিব এবং ২০২৪-২০২৫ ইং সালের কমিটিতে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হলাম।
২০২০ সালের উপনির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করি।
জনতার খবর: আপনি সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী? যদি দল আপনাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন—তাহলে এলাকার জন্য আপনার প্রধান অঙ্গীকার কী?
সেলিম রেজা:
প্রথম কথা হচ্ছে, আমি নির্বাচন করতে চাই মানুষের সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে, ক্ষমতা ভোগের জন্য নয়। শুধু মুখের বলি দিয়ে নয়, বাস্তবে কাজিপুরের সমগ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য যা যা করণীয় তাই তাই করবো ইনশাআল্লাহ। কাজিপুর উপজেলাকে বাংলাদেশের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবো। আমি দলীয়ভাবে দেশনায়ক তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারে বিশ্বাসী। নির্বাচিত হলে ইনশাআল্লাহ আমি কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করবো, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবো।
সঙ্গে সঙ্গে আমি সিরাজগঞ্জ-১ এর সবচেয়ে বড় সংকট নদীভাঙন—এটার বিরুদ্ধে লড়াই করবো। প্রতিবছর যমুনার ভাঙনে শত শত মানুষ গৃহহীন হচ্ছে, জমি হারাচ্ছে, নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। অথচ আজ পর্যন্ত এই সমস্যার জন্য কেউ একটি টেকসই সমাধান দেয়নি। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, নদীভাঙন রোধে বাস্তবভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করবো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করবো।দল মত নির্বিশেষে সকলকেই নিয়েই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজিপুরের জন্য কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।
জনতার খবর: আপনি এমন একটি আসনে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন, যেটা গত ৫২ বছর ধরে আওয়ামী লীগের হাতে। আপনি কীভাবে দেখছেন এই দীর্ঘ শাসনের বাস্তবতা?
সেলিম রেজা:সত্যি বলতে, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের জনগণ গত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে একটি পরিবারকেন্দ্রিক, একই পরিবার বারবার নির্বাচিত হওয়ায় পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি কাজিপুরে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ কাজিপুরবাসী। বিরোধীমত দমনে আওয়ামী লীগ ও তাদের সন্ত্রাসী সংগঠন কাজিপুরে এক ধরনের দুর্গ তৈরি করেছিল। তাদের ভয়ভীতি, হুমকি-ধামকিতে সাধারণ মানুষ অনেকটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব, নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ, গুম, খুন, ধর্ষণ ও মাদকের মত অপরাধ মহামারির মতো কাজিপুরে ছড়িয়ে পড়ে। যে কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই তাকে নিপীড়ন, হামলা, মিথ্যা মামলা ও সামাজিকভাবে একঘরে করার মত নির্যাতনের শিকার হতে হতো। জনজীবন হয়ে পড়ে বাকস্বাধীনতাহীন, নিরাপত্তাহীন ও অবরুদ্ধ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের সকল কুকর্মের তথ্য প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ বলছে, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সামাজিক বিচার সালিস, ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট ও যানবাহনে অবৈধ চাঁদাবাজি চালিয়েছে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বহু ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধ্বংস করেছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটিয়েছে। নিয়োগে মেধাবীদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে অবাধে নিয়োগ বাণিজ্য করেছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে গুম, মামলা, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ধর্ষণের বিচার চাইলে ভুক্তভোগীকে উল্টো হেনস্থা করা হতো।
সংখ্যালঘুদের ওপর চালানো হয়েছে দমন-পীড়নের স্টিম রোলার। এতদিন কেউ ভয়ে কিছু বলতে পারেনি। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর কাজিপুরে যেন আনন্দের বন্যা বইছে। বন্দিত্বের শৃঙ্খল ছিন্ন করে মানুষ স্বাধীনভাবে নিশ্বাস নিতে পারছে। তারপরও মানুষের মনে আওয়ামী লীগের ভয়াবহ দুঃশাসনের স্মৃতি এখনো বিরাজমান! কাজিপুর এবং আশেপাশের জনপদে উন্নয়ন মানেই হয়েছে কিছু গুটি কয়েক মানুষের প্রভাব বিস্তার। কিন্তু সাধারণ মানুষ, কৃষক, নদীভাঙনের শিকার পরিবার, মেহনতি মানুষ—তারা উন্নয়নের সুফল পায়নি। আমি বিশ্বাস করি, এখন সময় এসেছে এই ইতিহাস বদলানোর। জনগণ পরিবর্তন চায়, এবং আমি সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
জনতার খবর: জনগণ কেন আপনাকে বেছে নেবে? আপনার কী মনে হয়?
সেলিম রেজা: কারণ আমি তাঁদের মধ্যেই থাকি, তাঁদের কষ্ট বুঝি, তাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলি। আমি কোনো ‘প্যারাশুট প্রার্থী’ না—আমি মাঠের মানুষ। টাকা দিয়ে অনেকে ভোট কেনার চেষ্টা করে, কিন্তু বিশ্বাস কিনে নেওয়া যায় না। আমি সেই বিশ্বাস অর্জন করেছি আমার ত্যাগ, কাজ, এবং জনগণের সাথে সম্পর্ক দিয়ে। জনগণের এই বিশ্বাসই আমার মূল শক্তি।আমরা কাজিপুরকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব, নিয়োগ বাণিজ্য, গুম, খুন ও ধর্ষণমুক্ত ঘোষণা করেছি। সবাই স্বাধীনভাবে চলাফেরা, মতপ্রকাশ, ব্যবসা-বাণিজ্য, যানবাহন পরিচালনা করতে পারবেন। কাউকে কোনো চাঁদা দিতে হবে না। কেউ দলের নামে চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব করতে এলে তাকে জনসমক্ষে ধরে আমাদের হাতে সোপর্দ করতে বলেছি। যেহেতু বিগত দিনেও কাজিপুরের জনগণের জন্য কাজ করেছি সুতরাং কাজিপুরের জনগণের প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস আছে তারা আমার পাশেই থাকবে ইনশাআল্লাহ।
জনতার খবর: আপনার রাজনীতির শুরুটা ছাত্র রাজনীতি থেকে,সেই অভিজ্ঞতা আপনাকে কী শিখিয়েছে?
সেলিম রেজা:
ছাত্র রাজনীতি আমাকে শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে, প্রতিবাদ করতে, সংগঠিত হতে। আমি ছাত্র অবস্থায় বিভিন্ন দায়িত্ব ছিলাম । সেটা আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়—এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিশ্বাসের প্রতিফলন। তারা বিশ্বাস করেছে আমি তাদের কণ্ঠস্বর হবো, তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলবো। সেই ছাত্রদের ভালোবাসা ও আস্থাই আমাকে আজকের সেলিম রেজা বানিয়েছে।
জনতার খবর: আপনি কী ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন?
সেলিম রেজা:
জেল-জুলুম আমার জীবনে নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল। কখনো মিটিং থেকে, কখনো মাঝরাতে বাড়ি থেকে—গ্রেপ্তার হয়েছি। বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়েছি। আমাকে একাধিকবার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। গাড়ি ভাঙচুর, বাড়ি ঘেরাও, এমনকি প্রকাশ্যে হামলা—সবই পেয়েছি। কিন্তু আমি কখনো পিছিয়ে যাইনি। আমার বিশ্বাস ছিল, মিথ্যার দেয়াল চিরদিন টিকে থাকতে পারে না।
জনতার খবর: দীর্ঘ ১৭ বছর নিজের বাড়িতে রাতে ঘুমাতে পারেননি—এমন অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
সেলিম রেজা:
এই অংশটা আমার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক। সন্তানদের মুখ দেখেও থাকতে পারিনি, পরিবারের সাথে রাত কাটাতে পারিনি—কারণ আমি ছিলাম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা আমাকে শক্তি দিয়েছে। যখন কোনো দিনমজুর,নির্যাতিত নিপীড়িত, অত্যাচারিতরা আমার হাত ধরে বলে, ‘ভাই, আপনি হাল ছাড়বেন না’—তখন আমার চোখের পানি শুকিয়ে যায়।
জনতার খবর: এত সংগ্রামের পর, রাজনীতি থেকে আপনি কী শিখেছেন?
সেলিম রেজা:
আমি শিখেছি, রাজনীতি মানে শুধু পদ-পদবি নয়, রাজনীতি মানে মানুষের আস্থা অর্জন করা। ক্ষমতা সাময়িক, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা স্থায়ী। আমি জেল খেটেছি, ত্যাগ স্বীকার করেছি, কিন্তু তার বিনিময়ে আমি জনগণের বিশ্বাস পেয়েছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
জনতার খবর: আপনি আগামী দিনের তরুণদের রাজনীতি নিয়ে কী বার্তা দিতে চান?
সেলিম রেজা:
তরুণরা যদি সাহসী ও সৎ হয়, তাহলে তারা শুধু অঞ্চল নয়, দেশকেও বদলে দিতে পারে। আমি চাই না তারা আর দুর্নীতির বা ভয়ের রাজনীতিতে আটকে থাকুক। আমি চাই তারা এমন এক নতুন রাজনীতির ধারা তৈরি করুক—যেখানে থাকবে সততা, সাহস, দায়িত্ববোধ ও ত্যাগ।
জনতার খবর: সবশেষে জানতে চাই, এত ঝুঁকি, এত কষ্ট—তার পরেও আপনি কেন এখনো রাজনীতিতে আছেন?
সেলিম রেজা:
আমি চাইলে আরামদায়ক জীবন বেছে নিতে পারতাম, ব্যবসা করতে পারতাম। কিন্তু আমি রাজনীতি করি মানুষকে বাঁচাতে, তাদের কান্না থামাতে,তাদের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে, আমি যদি আমার জীবন দিয়েও নদীভাঙনের হাত থেকে কাজিপুরকে রক্ষা করতে পারি, —সেটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি মানেই সেবা, রাজনীতি মানেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আলহামদুলিল্লাহ, আজ ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই দুঃশাসনের শৃঙ্খল ভেঙে গেছে। আমাদের বড় প্রাপ্তি হলো—আমরা মুক্ত হয়েছি। এখন তরুণ, নবীন, প্রবীণ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভয়ভীতিহীন, বিশৃঙ্খলামুক্ত, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পরিচ্ছন্ন কাজিপুর গড়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। ইনশাআল্লাহ, আমরা সবাই মিলে একটি নিরাপদ, অসাম্প্রদায়িক, পরিচ্ছন্ন, শান্তিপূর্ণ কাজিপুর গড়ে তুলব।"
জনতার খবরঃ ধন্যবাদ, আপনার সুন্দর মতামত দেওয়ার জন্য। আগামীতে আপনার নেতৃত্বকে কাজিপুরের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হোক সেই প্রত্যাশা কামনা করি।
সেলিম রেজাঃ ধন্যবাদ। আপনাদের জন্য শুভ কামনা রইল।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
শহীদ জিয়া অমর হোক, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ, আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান জিন্দাবাদ।
আল্লাহ হাফেজ।
মন্তব্য করুন