মেহেদী হাসান হাবিব
জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকায় দুই কিশোরীর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থেকে গড়ে ওঠা ‘প্রেমের সম্পর্ক’ এবং পরবর্তীতে একত্রে সংসার করার দাবিতে অনড় অবস্থানের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তামান্না আক্তার ঝিঁঝিঁ (১৭) ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী একে অপরকে বিয়ে করে ঘর বাঁধার দাবিতে অনড় থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে তাদের পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে এই দুই কিশোরীর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গভীর বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়ে প্রেমে রূপ নেয় বলে দাবি কিশোরীদের। সম্প্রতি তারা পরিবারকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর পরিবারের চাপ ও স্থানীয় সমঝোতায় তারা ফিরে এলেও পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
বাড়ি ফেরার পর থেকেই দুই কিশোরী একে অপরের সাথে থাকার জন্য জেদ শুরু করে। এক কিশোরীর মা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন,
"সামাজিক মর্যাদা ও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা কোনোভাবেই এটি মেনে নিতে পারছি না। আমরা এখন সমাজে মুখ দেখাব কীভাবে?"
বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় স্থানীয়দের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দফায় দফায় সালিশ করলেও কিশোরীদের তাদের সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে কিশোরী তামান্না আক্তার ঝিঁঝিঁ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, "আমরা স্বেচ্ছায় এই সম্পর্কে জড়িয়েছি, কেউ আমাদের বাধ্য করেনি। আমরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বিয়ে করে একসাথে থাকতে চাই।" নবম শ্রেণির অপর ছাত্রীটিও একই সুরে তাদের ভালোবাসার কথা ব্যক্ত করে এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত পাশে থাকার অঙ্গীকার করে।
বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সমলিঙ্গের সম্পর্কের কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই। অন্যদিকে, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী এ ধরনের সম্পর্ককে 'সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ' ও 'প্রকৃতিবিরুদ্ধ' হিসেবে গণ্য করা হয়। স্থানীয় আলেমদের মতে, বয়ঃসন্ধিকালে সঠিক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবই সন্তানদের এ ধরনের পথে ধাবিত করে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি বয়ঃসন্ধিকালের আবেগ বা পশ্চিমার সংস্কৃতির প্রভাব হতে পারে। এই সংকট থেকে উত্তরণে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
পারিবারিক বন্ধন: সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা যাতে তারা মনের কথা শেয়ার করতে পারে।
ডিজিটাল নজরদারি: স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটে সন্তান কী দেখছে সেদিকে খেয়াল রাখা।
কাউন্সিলিং: শাসন বা বলপ্রয়োগ না করে বিশেষজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীর মাধ্যমে মানসিক সহায়তা প্রদান করা।
বর্তমানে কিশোরী দুটির এই অনড় অবস্থান স্থানীয় সমাজ ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন।
মন্তব্য করুন