মোঃ আবু সায়েম
ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগাড়িতে গ্রামে গ্রামে কাপড় বিক্রি, সাপ্তাহিক কিস্তিতে সহজ সুবিধা
গ্রামের সাধারণ মানুষের পোশাকের চাহিদা মেটাতে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগাড়ি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কাপড় বিক্রি করছেন একদল উদ্যোক্তা। ছবিতে দেখা যায়, একটি গ্রামের রাস্তায় কয়েকজন নারী–পুরুষ ভ্যানগাড়ির চারপাশে জড়ো হয়ে বিভিন্ন ধরনের কাপড় দেখছেন ও দরদাম করছেন। বিক্রেতারা সাপ্তাহিক কিস্তির ভিত্তিতে এসব কাপড় বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার উদ্যোক্তা মোঃ রউজ উদ্দীন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে এই অভিনব ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি ভ্যানগাড়িতে করে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিস, শার্ট-প্যান্টসহ নানা ধরনের পোশাক নিয়ে যান। পাশাপাশি তার কাছে নারী ও শিশুদের জন্য যাবতীয় রং–বেরঙের কাপড়ও পাওয়া যায়, যা গ্রামীণ ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
মোঃ রউজ উদ্দীন বলেন, “এতে খুব ভালোই লাগছে এবং ব্যবসাটাও বেশ ভালোভাবে চলছে। দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতে যে পরিমাণ টাকা লাগে, তার অর্ধেক টাকা হলেই আমার এই ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা চালানো সম্ভব। এতে খরচ কম, ঝুঁকিও কম।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেক দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে নতুন কাপড় কিনতে পারেন না। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাপ্তাহিক কিস্তিতে কাপড় বিক্রির ব্যবস্থা করেছেন। এতে অল্প অল্প করে টাকা পরিশোধ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো মূল্য পরিশোধ করা যায়।
একজন নারী ক্রেতা জানান, “একবারে ৩–৫ হাজার টাকা দিয়ে ভালো শাড়ি বা থ্রি-পিস কেনা আমাদের পক্ষে কঠিন। কিন্তু সপ্তাহে ২০০–৩০০ টাকা করে দিলে ধীরে ধীরে পরিশোধ করা যায়। এতে আমাদের অনেক উপকার হচ্ছে।”
তবে কিছু সচেতন মহল মনে করছেন, কিস্তিতে বিক্রির ক্ষেত্রে মোট মূল্য ও কিস্তির সংখ্যা সম্পর্কে ক্রেতাদের স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি। না হলে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঝুঁকি থেকে যায়।
সব মিলিয়ে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগাড়িতে কাপড় বিক্রির এই উদ্যোগ গ্রামীণ মানুষের জন্য যেমন সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে, তেমনি উদ্যোক্তা মোঃ রউজ উদ্দীনের মতো মানুষের জন্য এটি একটি সফল ও স্বল্প পুঁজি নির্ভর বিকল্প জীবিকার পথও তৈরি করছে।