আবু সায়েম
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে ব্যাপকভাবে সরিষা চাষ হয়েছে। উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তাকালেই চোখে পড়ছে সরিষা ফুলের হলুদ আভা। প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের মাঝেই নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন এলাকার কৃষকরা।
আমন ধান কাটার পর তুলনামূলক কম খরচ ও স্বল্প সময়ে লাভের আশায় এবার অনেক কৃষকই সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন। উপজেলার ভাবিচা, চন্দননগর, হাজিনগর, রসুলপুর, পারইলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সরিষা চাষের ব্যাপকতা চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা চাষে ধানের তুলনায় কম সার, কম সেচ এবং কম শ্রমের প্রয়োজন হয়। মাত্র ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। বাজারে সরিষার তেল ও বীজের ভালো চাহিদা থাকায় কৃষকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
ভাবিচা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন,
“আগে ধান চাষ করে তেমন লাভ হতো না। এবার সরিষা করেছি, খরচ কম হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি।”
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নিয়ামতপুর উপজেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের বীজ বিতরণ, সার ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সরিষা ক্ষেত ঘিরে মৌচাষীরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। মাঠের পাশে স্থাপন করা হয়েছে মৌবাক্স। এতে সরিষার পরাগায়ন বাড়ছে এবং মধু সংগ্রহের মাধ্যমে সৃষ্টি হচ্ছে বাড়তি আয়ের সুযোগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সরিষা চাষ একদিকে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সহায়তা করছে, অন্যদিকে কৃষকদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে নওগাঁর নিয়ামতপুরে সরিষা চাষ শুধু কৃষিতে বৈচিত্র্যই আনেনি, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।